কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
এতিমখানা ও রান্নাঘরের গ্রিল না লাগিয়েও বিল-ভাউচার জমা দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাদরাসা অধ্যক্ষ ও এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি যশোরের কেশবপুর বাহরুল উলুম কামিল মাদরাসা ও এতিমখানায়।
অভিযোগ, ফসিয়ার রহমান দু’দফায় ৮০ হাজার টাকা আত্নসাৎ করেছেন। তিনি সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদার ও কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের কেশবপুর পৌর কমিটির সভাপতি রফিক মোড়লের লোক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ সালে এতিমখানার ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এরপর ওই ভবনের চারটি জানালায় গ্রিল লাগানো বাবদ ৩০ হাজার এবং এতিমখানার রান্নাঘরে গ্রিল লাগানোর কথা বলে আরও ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। গ্রিল লাগানোর একটি ভাউচারের তারিখ ১৭.০৪.২০২৪ এবং অপরটি ৩০.০১..২০২৪ তারিখে।
কেশবপুর পৌর শহরের বিসমিল্লাহ ইজ্ঞিনিয়ারিং অ্যান্ড ওয়েল্ডিং ওয়ার্কসপের (মালিকের নাম আব্দুল মালেক) ভাউচার জমা দিয়ে তিনি ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু অদ্যাবধি গ্রিল লাগানো হয়নি। এতিমখানা ও রান্নাঘরে মোট ৯২০ কেজি ওজনের লোহার গ্রিল লাগানো হয়েছে বলে এক লাখ ১০ হাজার টাকার ভাউচারও তিনি প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়েছেন। তাতে এতিমখানার জানালার গ্রিল না লাগিয়েও তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে আরও ৩০ হাজার টাকা পাচ্ছেন বলে ভাউচারে দেখা যায়।
এছাড়া গত ২৭.০১.২০২৩ তারিখে ওই এতিমখানার দানের ধান বিক্রি করে তিনি আরও ১০ হাজার ৫০ টাকা পকেটস্থ করেছেন বলে হাত রশিদে টাকা বুঝে নেওয়ার স্বাক্ষর রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, এতিমখানা ভবনের গ্রিল না লাগানোর কারণে নতুন ভবনটি পরিত্যক্ত হিসেবে রয়েছে।
এতিমদের টাকা আত্নসাত করার ব্যাপারে তদন্তপূর্বক দুর্নীতিবাজ মো. ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী। এতিমখানাটি সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্টপ্রাপ্ত।
কেশবপুর এতিমখানার তত্ত্বাধয়ক মো. রুহল আমিন বলেন, এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. ফসিয়ার রহমান প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবনে জানালা এবং রান্নাঘরে গ্রিল লাগানোর কথা বলে ২-৩ বছর আগে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে তা আত্নসাত করেছেন। এছাড়া, অনুদানের ধান বিক্রয়ের ১০ হাজার ৫০ টাকা নিয়ে আজ পর্যন্ত সে টাকা দেননি।
মাদরাসার অধ্যক্ষ ও এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক মো. ফসিয়ার রহমান বলেন, আমি ২-৩ বছর আগে এতিমখানায় শিক্ষার্থীদের হল রুমে গ্রিল লাগানোর কথা বলে তত্ত্বাবধয়কের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। সেখানে গ্রিল লাগানো হয়নি। বর্তমান কমিটির সভাপতি মিটিং ডেকে ওই টাকা চাইলে তিনি ফেরত দিবেন।
কেশবপুর এতিমখানার সভাপতি সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস বলেন, ২০২৩-২৪ সালে আমি ওই এতিমখানার সভাপতি ছিলাম না। ওই সময় মো. ফসিয়ার রহমানের দুর্নীতির বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।