যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যশোরে সবজি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাচ্ছে মালচিং প্রযুক্তি

উৎপাদন খরচ কমছে, বাড়ছে ফলন; লাভবান হচ্ছেন কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি

, যশোর

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ জুলাই,২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
যশোরে সবজি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাচ্ছে মালচিং প্রযুক্তি

শ্রাবণ মাস এলেই যশোরের অধিকাংশ সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। গোড়া পচে মরে যায় গাছ। কমে যায় উৎপাদন, বাড়ে বাজারদর। তবে সেই চিরচেনা চিত্র বদলে দিচ্ছে আধুনিক মালচিং প্রযুক্তি।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার হায়াতপুর ও মোবারকপুর গ্রামের কৃষকেরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্ষাকালেও বাণিজ্যিকভাবে সবজি উৎপাদন করছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমছে, অন্যদিকে ফলন বাড়ায় লাভও বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, মালচিং পদ্ধতিতে শ্রমিক ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ, রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। আবহাওয়ার অনুকূলে ফলন বাড়তে পারে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে হায়াতপুর ও মোবারকপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে বেগুন, করলা, খিরাই, পটল, কাকরোলসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ।

অথচ শ্রাবণের এ সময়ে সাধারণত এসব মাঠে সবজির চাষ প্রায় থাকেই না। অতিবৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে গাছের গোড়া পচে যাওয়ায় অধিকাংশ কৃষক এ সময় সবজি আবাদ থেকে বিরত থাকেন।

কিন্তু রাজগঞ্জ এলাকার এই দুটি গ্রামে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। বর্ষার মধ্যেও মাঠজুড়ে সবজির সবুজ সমারোহ। এর পেছনে রয়েছে মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার।

হায়াতপুর গ্রামের কৃষক মুকুল হোসেন ৪৫ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে করলার আবাদ করেছেন। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে (জুন-আগস্ট) সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

মুকুল হোসেন বলেন, ‘বর্ষাকালে জমিতে পানি জমে সবজির গোড়া পচে যায়। কিন্তু মালচিং পদ্ধতিতে বেড পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখায় গাছের গোড়ায় পানি জমতে পারে না। আগাছাও জন্মায় না।

পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়, তাই কীটনাশকও কম লাগে। শ্রমিক খরচও কমে যায়। ফলে উৎপাদন খরচ কমে, ফলন বাড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে মালচিং ছাড়া করলার চাষ করলে উৎপাদন খরচ আর বিক্রির টাকা প্রায় সমান হয়ে যেত। এখন একই জমিতে লাভ করতে পারছি। এ মৌসুমে ৪৫ শতক জমি থেকে প্রায় এক লাখ টাকা মুনাফা হবে বলে আশা করছি।’

এলাকায় ছয় বছর আগে প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেন হায়াতপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান টুকু। বর্তমানে তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে সবজির আবাদ করছেন। এর মধ্যে আড়াই বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে খিরাই ও বেগুনের চাষ করেছেন।

মিজানুর রহমান টুকু বলেন, ‘প্রথমদিকে অনেকেই এই পদ্ধতিকে ঝামেলার মনে করতেন। কেউ আগ্রহ দেখাতেন না। কিন্তু আমার জমিতে ভালো ফলন দেখে আশপাশের কৃষকেরা উৎসাহিত হন। এখন এলাকায় প্রায় সব কৃষকই মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।’

তিনি জানান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নবলোক পরিষদের সহযোগিতায় তিনি এই প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে ও ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছেন।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক সহায়তায় নবলোক পরিষদ মণিরামপুর উপজেলার ১০ জন কৃষককে মালচিং প্রযুক্তির আওতায় এনেছে। প্রতিটি কৃষককে প্রায় ১৫ হাজার টাকা মূল্যের মালচিং উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

নবলোক পরিষদের কৃষি কর্মকর্তা প্রিন্স হালদার বলেন, ‘পিকেএসএফের অর্থায়নে প্রথম পর্যায়ে ১০ জন কৃষককে উত্তম কৃষি চর্চার আওতায় আনা হয়েছে। তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আগামী পর্যায়ে আরও ৫০ জন কৃষককে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’

মালচিং মূলত একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি। এ পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত করে উঁচু বেড তৈরি করা হয়। এরপর বিশেষ ধরনের পলিথিন শিট দিয়ে বেড ঢেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে সেখানে সবজির চারা রোপণ করা হয়।

এতে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, আগাছা জন্মায় না এবং অতিরিক্ত পানি সহজেই বেডের দুই পাশ দিয়ে নেমে যায়। পাশাপাশি পলিথিনের প্রতিফলিত আলো ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে সহায়তা করায় কীটনাশকের ব্যবহারও কমে আসে।

ফলে তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদ ও অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব হয়।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহারে শ্রমিক ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার প্রায় ৩০ শতাংশ কমে। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই কৃষকদের এই প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)