সুবর্ণভূমি ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দ্য ইন্টারসেপ্ট ও অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন। ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সেবার মাধ্যমে তার পোস্ট প্রকাশের আগেই সেগুলোতে অর্থের বিনিময়ে প্রবেশাধিকার দেওয়া বন্ধ করাই মামলার মূল লক্ষ্য।
বুধবার আদালতে দাখিল করা মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক এই সেবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সীমিত করবে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ ‘গভীরভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত’। এতে প্রেসিডেন্ট এমন সরকারি তথ্য থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ, যারা এসব তথ্যের জন্য অর্থ দিতে ইচ্ছুক ও সক্ষম, তাদের কাছে আগাম তথ্য সরবরাহের বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হবে।
মামলায় মার্কিন সংবিধানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ ধরনের ব্যবস্থা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অন্তর্নিহিত নীতির পরিপন্থী। বাদীপক্ষের দাবি, প্রেসিডেন্টের জনসাধারণের উদ্দেশে দেওয়া ঘোষণায় সবার সমান প্রবেশাধিকারের নীতি এতে লঙ্ঘিত হবে।
মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, এই সাবস্ক্রিপশন সেবা সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর সুরক্ষারও পরিপন্থী। বাদীপক্ষের যুক্তি, সরকারি তথ্য পাওয়ার জন্য সরকার ইচ্ছামতো অর্থ আদায় করতে পারে না।
মামলায় ট্রাম্পকে তার সরকারি পদমর্যাদায় বিবাদী করা হয়েছে। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের সহযোগী নাটালি হার্প এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যানিয়েল স্ক্যাভিনোকেও বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার কেন্দ্রে রয়েছে ‘ট্রুথ এপিআই’। জুলাই মাসে এই সেবার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ১ আগস্ট এটি চালু করা হয়।
ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ পরিচালিত এই সাবস্ক্রিপশন সেবায় মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ নেওয়া হয়। এর বিনিময়ে গ্রাহকেরা ট্রাম্প এবং প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত পোস্টে রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক প্রবেশাধিকার পান।