কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের নাম বাদ দিয়ে জামায়াত নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলীর কাছে অভিযোগ করা হলে তিনি ওই তালিকা বাদ দিয়ে অন্য মসজিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
স্থানীয় মুসল্লিদের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান এবং খাদেম আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সম্প্রতি সরকার মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সরকারিভাবে সম্মানী ভাতার আওতায় আনার জন্য ঘোষণা দেয়। প্রথম পর্যায়ে কেশবপুরের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের নামের তালিকা জমা নেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে প্রতিটা ইউনিয়নে আটটি বিএনপির এবং সাতটি স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে জামায়াতের নেতারা তালিকা জমা দেন। ওই তালিকায় উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদের ইমাম ও খাদেমের নাম বাদ দিয়ে মসজিদ কমিটির সদস্যরা সেখানে স্থানীয় জামায়াত নেতা মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার ও স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াত নেতা তবিবুর রহমানকে ‘ইমাম’ ও ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মুতালেব মোল্লাকে ‘খাদেম’ হিসেবে তাদের নামের তালিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলীর কাছে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। কিন্তু এমপি অনিয়ম দূর না করে ওই মসজিদের নামই দিয়ে দেন তালিকা থেকে। পরে সেইস্থলে পূর্বপাড়া জামে মসজিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি বলেন, ‘তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে আমার কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। স্থানীয় জামায়াত নেতারা নিজেদের মতো করে প্রকৃত ইমাম ও খাদেমের নাম বাদ দিয়ে তাদের নেতাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের এমপি, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি মাসে ইমামদের জন্য পাঁচ হাজার, মুয়াজ্জিনদের তিন হাজার এবং খাদেমদের দুই হাজার টাকা করে সম্মানী দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এরই আলোকে সরকারের নির্দেশে প্রতিটি উপজেলা থেকে তালিকা চাওয়া হয়। ওই তালিকায় গড়ভাঙ্গা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের নামের তালিকা জমা দেন স্থানীয় জামায়াতের নেতারা। সেখানে প্রকৃত ইমাম ও খাদেমের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় আগের তালিকা থেকে ওই মসজিদের নাম বাদ দিয়ে অন্য একটি মসজিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের তালিকা জমা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ওই তালিকা চূড়ান্ত না। এখনও তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ওই তালিকায় যদি প্রকৃত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের নাম বাদ পড়ে, তবে তদন্ত করে তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।