ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদলের এক নেতা ছাত্রশিবিরের হল সেক্রেটারিকে চড় মারার ঘটনায় ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার দু'দিন পরে প্রশাসনের চেষ্টায় সমঝোতায় পৌঁছেছেন দুই সংগঠনের নেতারা। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সব পদক্ষেপ গ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তারা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনে প্রক্টর অফিসে এ বিষয়ে সভার আয়োজন করেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান। এসময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ‘কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমরা প্রক্টর স্যারের সাথে মিটিং করেছি। গত ৫ তারিখের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই পরিবেশ যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয়, শিক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালাতে পারে, ক্যাম্পাসকে যেভাবে দেখতে চায়, সেভাবেই আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।’
‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে ভূমিকা নেবে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় সেই কার্যক্রমে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে,’ বলেন তিনি।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, সাম্প্রতিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীর এই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বহিরাগতদের এনে মহড়া ও কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা উদ্বেগজনক। জামায়াত, বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয়ে কেউ সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে ছাত্রশিবির তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
মিরপুর-ইবি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হক বলেন, ‘উভয় সংগঠনের নেতৃত্বে যারা আছেন তারা একটা সমঝোতায় পৌঁছেছেন। ওনারা সবাই শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস চান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখার জন্য কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে আমরা বদ্ধপরিকর। মাঝখানে কেউ কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করলে পুলিশ অবশ্যই কঠোর অবস্থানে যাবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘এখানে যে যে ছাত্র সংগঠনগুলো আছে, তারা পারস্পরিক সুশৃঙ্খল পরিবেশে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে- এ প্রত্যাশা আমি রাখি। ৫ আগস্টের পরে সুন্দর ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে যেভাবে তারা কাজ করে গেছে, এখনও সেভাবে কাজ করবে।’