যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পত্তি দানে নতুন নিয়ম, সুরক্ষিত দাতা

আইনজ্ঞরা বলছেন ‘প্রগতিশীল আইন’

জান্নাতুল তানভী

প্রকাশ : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:০৪ পিএম
সম্পত্তি দানে নতুন নিয়ম, সুরক্ষিত দাতা

সম্পত্তি দান করার পরেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সেটি ভোগ করার অধিকার রাখতে পারবেন এমন বিধান রেখে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পাস হয়। তবে এটি পাস হওয়ার পর থেকেই সম্পত্তি সংক্রান্ত নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে প্রচলিত ‘দ্যা ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২ অথবা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২’ অনুযায়ী, কেউ সম্পত্তি দান করার সাথে সাথে সেটির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার গ্রহীতার কাছে চলে যায়। যে কারণে বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি লিখে দেয়ার পর অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়েন।

তবে নতুন সংশোধিত এই আইনে বলা হয়েছে, সম্পত্তি দান করলেও জীবদ্দশার বাবা-মায়ের সেই সম্পত্তিতে অধিকার অব্যাহত থাকবে।

রোববার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আইনটিতে নতুন এই সংশোধনীর বিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এটিকে কোরআন-সুন্নাহর বিরোধী বলে প্রতিবাদ করেন। তবে পরে কন্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

প্রশ্ন উঠছে, আইনের এই সংশোধনীর ফলে কী পরিবর্তন হচ্ছে? দাতা বা গ্রহীতা কী দান করা সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন? সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি কেন?

আইনজীবীরা বলছেন, ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনটি বাতিল করে নয়, বরং আগের আইনেই একটি বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের পারসোনাল আইনে কোন পরিবর্তন করা হয়নি।

বাংলাদেশের অনলাইন পাঠকরা এই আইনের বিষয়ে যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সার্চ ট্রেন্ডের ওপর নির্ভর করে এমন কিছু বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

আইনে সংশোধনীর ফলে কী পরিবর্তন এসেছে

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে আনা সংশোধনীর পরিবর্তন বুঝতে বর্তমানে বাংলাদেশে সম্পত্তি নিয়ে মানুষকে ঠিক কী ধরনের সমস্যায় ভুগতে হয়, সেটি বুঝতে একটি ঘটনা দিয়ে উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।

এই গল্পটি ময়মনসিংহের ত্রিশালের মো. আব্দুল মোনায়েমের গল্প। যিনি নিজের কোন সন্তান না থাকায় ১১৫ শতাংশ জমি অর্থাৎ সম্পত্তির কিছু অংশ তারই এক ভাইকে লিখে দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম জানান, মুসলিম আইনের বিধান অনুযায়ী, হেবা করে মি. মোনায়েম ওই সম্পত্তি তাকে লিখে দিয়েছিলেন। হেবার বিধান অনুযায়ী, জীবিত অবস্থায় দাতা সম্পত্তি দিতে পারেন। কিন্তু মি. মোনায়েম যখন নিজের আরেকজন ভাইয়ের সন্তানকে সম্পত্তির কিছু অংশ দিতে চান তখন তিনি জানতে পারেন পুরো সম্পত্তিই ওই ভাই নিজের নামে লিখে নিয়েছেন।

আইনজীবী মি. ইসলাম বলেন, “এই নিয়ে মতবিরোধের জেরে একপর্যায়ে সে ভাতিজার সঙ্গে ঝগড়া করে নিজ বাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। এখন হেবার ঘোষণা বাতিল করতে চাচ্ছে। বাট আইনগতভাবে সেই সুযোগ তার হাতে না থাকায় নিজেই একপ্রকার উদ্বাস্তু জীবন যাপন করছে।”

সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে আনা সংশোধনীটিকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলছেন, এই সংশোধনীর ফলে যদি কেউ এই আইনের অধীনে সম্পত্তি গিফট বা দান করেন তাহলে এখন থেকে সম্পত্তি দাতা অর্থাৎ ময়মনসিংহের মি. মোনায়েমের মত করুণ অবস্থা কারো হবে না। কারণ জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি গিফট করলেও আমৃত্যু সেটি তিনি ভোগ-দখল করতে পারবেন বলে জানান এই আইনজীবী।

“সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনীর ফলে এখন একজন দাতা তার মৃত্যুর আগে এবং পরেও নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন। মৃত্যুর আগে সম্পত্তি গিফট করলেও সেটি আমৃত্যু ভোগ-দখল করতে পারবেন। একইসঙ্গে মৃত্যুর পরে তার কষ্টে অর্জিত সম্পত্তি যথাযথ ব্যক্তির কাছে যাচ্ছে বলে নিশ্চয়তা পান,” বলেন মি. ইসলাম।

রোববার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী বিল উত্থাপন করে এই সংশোধনীর উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, দ্য ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২, তে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও, দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই।

রক্তসম্পর্কীয় নির্দিষ্ট স্বজন এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার স্বার্থ সীমিতভাবে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিধান প্রবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

এই উদ্দেশ্যেই এই আইনে নতুন দুইটি ধারা সংযোজন করার কথা উল্লেখ করে বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এটিকে কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানালেও কণ্ঠভোটে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পাস হয়।
কাকে সম্পত্তি গিফট বা দান করা যাবে?

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী যে বিলটি উত্থাপন করেন তাতে বলা হয়েছে, এই আইনটি ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ নামে পরিচিত হবে। একইসঙ্গে, অবিলম্বে আইনটি কার্যকর হবে বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনে সংশোধনী এনে ১২২ ধারায় নতুন দুইটি ধারা ১২২এ এবং ১২২বি যুক্ত করা হয়েছে।

বিলটিতে বলা হয়েছে, এই আইনে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, দাতার নিজের জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার বা লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট রাইটস সংরক্ষিত রেখে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দান করা সম্পূর্ণ বৈধ হবে।

নতুন যুক্ত করা ১২২ ধারা (২) এ বলা হয়েছে, এই দান কেবল তখনই বৈধ হবে যখন তা কোনো পিতা-মাতা বা দাদা-দাদী অথবা নানা-নানী তাদের সন্তান অথবা নাতি-নাতনিদের অথবা এর উল্টোটা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে করা হবে।

স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ১৭(১)(ক) ধারা অনুযায়ী রেজিস্ট্রি করা দলিলের মাধ্যমে ঘোষণা করে এই দান করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

দাতার জীবদ্দশায় যদি গ্রহীতা মারা যান, তাহলে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই সম্পত্তি আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে বলেও এই ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে, নতুন যুক্ত ১২২এ ধারার চার নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, এই ধারার অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে সেটি এই আইনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করা হবে।

একইসঙ্গে, সেটি এই আইন বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের অধীনে স্বীকৃত কোনো দান, হেবা বা অন্য কোনো হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতাকে সীমিত, ক্ষুণ্ন বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এই আইনটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তিনি মনে করছেন, কোন কারণে কোন বাবা-মা যেন এই আইন ব্যবহার করে কোন সন্তানকে বঞ্চিত না করতে পারেন এমন নিশ্চয়তারও প্রয়োজন ছিল।

মি. ইসলাম বলেন, “যাতে সন্তানদের মধ্যে কাউকে তার অংশ থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে নতুন আইনটি ব্যবহার না হয় সে বিষয়টির নিশ্চয়তা থাকলে ভালো হতো।”

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে আপত্তি কেন

বিল উত্থাপনের আগে আইনমন্ত্রী এই সংশোধনীর কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংসদে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সকল ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

এর ফলে প্রচলিত গিফট বা সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের উপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না বলে বিবৃতিতে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বলছেন, এই সংশোধনী খুবই প্রগতিশীল ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। উচ্চ আদালতে অসংখ্য মামলায় ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে মতামত দিয়ে আদালতকে সাহায্য করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী।

তিনি বলেন, “আমার মন্তব্য হলো, এটা একটা প্রগতিশীল এবং সংস্কারমূলক আইন। যেটার খুব পজিটিভ, ইতিবাচক ফল হবে, আমি মনে করি।”

সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীও মনে করছেন, সরকার ব্রিটিশদের করা আইনে একটি সংশোধনী এনেছে। অন্য কোন আইনে, ইসলামি হেবায় হস্তক্ষেপ করেনি সরকার।

মি. নিয়োগী বলেন, “ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি অ্যাক্টের ১২২ ধারা তো ১৮৮২ সাল থেকেই এই আইনটা আছে। তাহলে কীভাবে এটা সাংঘর্ষিক হবে?”

“সেখানেতো গিফটও আছে, ইসলামি হেবাও আছে। এতোদিন তো সাংঘর্ষিক হয় নাই। এখানে শুধু একটা জিনিস করেছে যে, এরপরেও ডোনার আমৃত্যু ওই সম্পত্তির দখলে থাকতে পারবে। এখানে গিফট ও ইসলামী হেবাতে সেটাতে কোন হাত দেয়নি পার্লামেন্ট” বলেন সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী।

আরেক আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বলছেন, বিরোধীদল বলছে, এটা কুরআনে বর্ণিত অছিয়ত যেটাকে উইল বলা হয়েছে তার পরিপন্থী।

“বাস্তবে উইল এবং হেবার বিধান বহাল আছে, যে কেউ ইচ্ছা করলে সেই বিধান প্রতিপালন করতে পারবে। আর এটা হলো একটা সর্বজনীন বিকল্প হস্তান্তর পদ্ধতি মাত্র, যার মাধ্যমে জীবন স্বত্বে ভোগাধিকার রেখে নিকটজনকে সম্পত্তি দান করা যাবে” বলেন মি.ইসলাম।

দান করা সম্পত্তি দাতা বা গ্রহীতা বিক্রি করতে পারবেন?

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে আনা নতুন সংশোধনীর ১২২বি ধারায় বলা হয়েছে, দাতার জীবদ্দশায় ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষিত রেখেই কীভাবে দান বাতিল বা পরিবর্তন করা যাবে।

এতে বলা হয়েছে, একটি দান নিবন্ধনের পর সাধারণত সেটি আর বাতিল করা যাবে না। তবে কয়েকটি ব্যতিক্রমী কারণ ঘটলে তখন সেই দান বাতিল বা পরিবর্তন করা যাবে।

এই কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, কোনো আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষাগত, পারিবারিক বা অন্য কোনো বাস্তব ও জরুরি প্রয়োজনে দাতা ও গ্রহীতা উভয়ে পারস্পরিক সম্মতিতে কোনো নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এই দান পরিবর্তন, বাতিল বা এর অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে রদবদল করতে পারবেন।

একইসঙ্গে, যদি পক্ষগণের বয়স কম থাকা, নিখোঁজ হওয়া, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, আইনগত অযোগ্যতা অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণে কোনো এক পক্ষের সম্মতি নেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে অন্য পক্ষের আবেদন সাপেক্ষে জেলা জজ সম্পত্তির এই দানের অধিকার পরিবর্তন, বাতিল বা রদবদল করার অনুমতি দিতে পারবেন।

তবে, জেলা জজ কোন কোন ক্ষেত্রে এই আদেশ দিতে পারবেন সেটিও বিলটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো আদেশ দেওয়ার আগে জেলা জজ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে নোটিশ দেবেন, তিনি প্রয়োজন মনে করলে তদন্ত পরিচালনা করার আদেশ দেবেন এবং আবেদনটি গুড ফেইথ বা ভালো উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হবেন জেলা জজ।

শুধু মেয়েসন্তানের ক্ষেত্রে পৈতৃক সম্পত্তির কী হবে

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিউল হক ফয়সাল বলছিলেন, প্রচলিত আইনের দুর্বলতা হলো, পিতা-মাতা জীবিতাবস্থায় উত্তরাধিকারদের মধ্যে সম্পত্তি লিখে দিলে সেটি সাথে সাথেই হস্তান্তর হয়ে যাওয়ায় নিজেরাই অনিরাপদ হয়ে যেতেন। কেননা এটি আর তার কাছ থেকে ফেরত নেয়া যায় না।

ঢাকার বিচারিক আদালতগুলোতে এই ধরনের অনেক মামলা দেখা যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিউল হক ফয়সাল বলেন, “বর্তমান উত্তরাধিকার আইনে, শরীয়াহ ল অনুসরণ করা হয়, যাদের শুধুমাত্র কন্যা সন্তান ছিল তারা পুরো সম্পত্তির মালিক হতে পারতেন না।”

“এখন এই সংশোধনীর ফলে পুরো সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন তারা। একটা মানুষ সারা জীবন উপার্জন করেছেন, এক্সপেক্ট করবেন তার সন্তানই সব পাবেন। এই সংশোধনীর কারণে ওই অস্থিরতা থাকবে না” বলছিলেন মি. ফয়সাল।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী জানান, হিন্দু আইনানুযায়ী, মেয়েরা জীবনসত্ত্বে সম্পত্তি শুধু ভোগ দখলের অধিকার ছাড়া কিছুই পান না। তাই এখন ডিড করে হিন্দু ধর্মের পারসোনাল ল অনুযায়ী আমাদের দিতে হয়।

তিনি জানান, এই আইনের কারণে এখন যাদের শুধুমাত্র কন্যা সন্তান তাদের ওই সন্তানকে সম্পত্তি দানের অধিকার এবং সারা জীবনের কষ্টার্জিত সম্পদ দান করলেও জীবদ্দশায় ভোগ করার অধিকার রক্ষা হয়েছে।

“যে ভদ্রলোক শুধু মেয়ে এবং স্ত্রীকে রেখে মারা যাচ্ছেন তার কষ্টার্জিত প্রপার্টিতে অন্য কেউ যাতে ভাগ বসাতে না পারেন এই ব্যবস্থাটা হয়। উনি দান করে যাবেন আবার শেষ বয়সে যেন কোন বিপদে না পড়েন” বলেন মি. নিয়োগী।

একইসঙ্গে, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন সংশোধনীর ফলে দান করলেও বাবা-মা জীবিত অবস্থায় বিপদে পড়বেন না বলেও উল্লেখ করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী।

“অনেক সময় সন্তানরা সব একই রকম হয় না। অনেক সময় মেয়েদের হাজবেন্ডরা বা হাজবেন্ডের পরিবাররা নানান রকম বুদ্ধি-টুদ্ধি দেয়। কাজেই এই দিক থেকে দানও করে দিলেন যাতে অন্য কেউ না পায় আবার যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন যাতে ওই সম্পত্তি তিনি ভোগ-দখল করতে পারেন এই নিশ্চয়তাও থাকলো” বলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী।

ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২ এর অধিকতর সংশোধনের জন্য আনীত বিলটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধারার অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে সেটি এই আইনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করা হবে।

একইসঙ্গে, সেটি এই আইন বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের অধীনে স্বীকৃত কোনো দান, হেবা বা অন্য কোনো হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতাকে সীমিত, ক্ষুণ্ন বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না।

সূত্র: বিবিসি

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)