যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়, বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক চাই। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বলেছিলেন। আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না।’

সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ব্রিকসের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত এখন পর্যন্ত খোলাখুলিভাবে কোনো নীতি জানায়নি। এ ক্ষেত্রে অপর পক্ষের উৎসাহও দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তারা আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। এটিকে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ মনে করে না বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা আশা করব ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের যে ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেই ধরনের সম্পর্ক চাই।’

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৭ বছর, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের প্রতিটি স্তর ও বিভাগে ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনেক সময় লাগবে।

জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আইন-কানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতৈক্য না হওয়ায় অসুবিধা দেখা দিয়েছে।

নিজেকে নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছি। আশা করি, বিএনপি ও বিরোধী দল মিলে যদি একটা সমঝোতায় আসে, তাহলে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।’

স্পিকার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দল একমত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ হলে এর প্রকৃত ফল পাওয়া যাবে এবং জনগণ দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে।

এ সময় জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া, গুম-খুন-হত্যা এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়েও কথা বলেন স্পিকার।

পরে ‘আমরা ভোলাবাসী’র নেতৃবৃন্দ ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। নতুন মহাসড়কেরও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এর মধ্যে যেটি ভালো হবে, সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)