যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

খামারির ২৮০টি মৌ-বাক্স পুকুরে ফেলে বিনষ্ট

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:৩১ পিএম
খামারির ২৮০টি মৌ-বাক্স পুকুরে ফেলে বিনষ্ট

কলারোয়ায় ২৮০টি মৌ-বাক্স পুকুরে ফেলে রাণি মৌমাছিসহ বিপুল সংখ্যক মাছি পানিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রচুর মৌমাছি, বহু মৌচাক ও মধু নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন জাহাঙ্গীর আলম নামে এক মৌচাষি।

এ ঘটনায় কলারোয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম।

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার হরিণনগর গ্রামের মৌচাষি জাহাঙ্গীর আলম গত ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে মাগুরা জেলা থেকে রানি মৌমাছি নিয়ে মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরদিন রাতে কলারোয়া উপজেলার মীরডাঙ্গা গ্রামে এসে পৌঁছান। সেখানে ইমামুল ইসলামের আমবাগানে অস্থায়ী মৌ-খামার স্থাপন করেন। ওই খামারে তিনি ২৮০টি মৌ-বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য নিবিড় পরিচর্যা ও পাহারা দিয়ে আসছিলেন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক একটা থেকে ভোর ছয়টার মধ্যে যেকোনো সময় দুষ্কৃতকারীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমবাগানে থাকা মৌমাছির ২৮০টি বাক্স পাশের দুটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। সকালে উঠে খামার মালিক দেখতে পান, পুকুরের পানিতে ডুবে রাণি মাছিসহ সব মৌমাছি মারা গেছে এবং বাক্সগুলো সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৌচাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুক্রবার সারাদিন আমবাগানে যখন মৌ বাক্সগুলো স্থাপন করলাম, তখন কেউ আমাকে কিছু বলেনি। তারপর শনিবার সকালে উঠে দেখি সব মৌ বাক্স পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শুধু পানিতে ফেলে দেওয়া হয়নি, এর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও জীবিকার পথও ধ্বংস করা হয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি বাক্সে সাড়ে ছয় হাজার টাকার মূল্যমানের মৌমাছি ছিল। ২৮০টি বাক্সে থাকা মৌমাছির বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া গত কয়েক দিনে খাদ্য ও পরিচর্যা বাবদ আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। শত্রুতা করে আমার সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমি একবারে নিঃস্ব হয়ে রাস্তায় বসে গেছি।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জমি মালিক ইমামুল ইসলাম, মহিদুল ইসলাম ও ইমরান হোসেনসহ এলাকার উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ বিকিপার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ আফজাল বলেন, ‘কলারোয়া থানায় বড়ুই বাগানে মৌ-খামারের সব মৌবাক্স পুকুরে ফেলে যে ক্ষতি করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাই। দুষ্কৃতকারী যেই হোক না কেন তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান রিমু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে ১১ তারিখ রাতে। ভুক্তভোগী থানায় পরদিন একটা লিখিত অভিযোগ দায়ের করে গেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)