স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
কার্যক্রম নিষিদ্ধ যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মিলন (৭৪) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
তিনি জীবিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গত ১০ অক্টোবর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জনের স্বাক্ষরিত এবং সিভিল সার্জনের প্রতিস্বাক্ষরিত স্মারক নম্বর ৮১/২০২৬ অনুযায়ী, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আটক হাজতি শহিদুল ইসলাম মিলন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। তার হাজতি নম্বর ৪৭৪১/২৬।
রোববার (১১ অক্টোবর) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শহিদুল ইসলাম মিলনকে কড়া নিরাপত্তায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়।
সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) রেফার করেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোশফেকুর রহমান জানান, শহিদুল ইসলাম মিলনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও তীব্র বুকে ব্যথাসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসাসুবিধার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর কারারক্ষী তপনের তত্ত্বাবধানে তাকে আবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরপরই তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য সংগ্রহের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভিড় করেন।
মৃত্যুর গুজব নাকচ করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ বলেন, শহিদুল ইসলাম মিলন জীবিত আছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।
তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কিছু কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। সেগুলো সমাধান করে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে কারাগারের সহকারী সার্জন ডা. এস এম মাহাবুবুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি প্রশাসনিক বলে তিনি এড়িয়ে যান।
উল্লেখ্য, শহিদুল ইসলাম মিলনের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিলের মামলা নম্বর ৯১, জিআর নম্বর ৪০১/২৪ এবং ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪, ৫ ও ৬ ধারায় মামলা চলমান রয়েছে।
কারা হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাকে সশস্ত্র পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।