যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মণিরামপুরে কলেজের গার্ড নিখোঁজ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : রবিবার, ১১ অক্টোবর,২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
আপডেট : রবিবার, ১১ অক্টোবর,২০২৬, ১১:২৬ পিএম
মণিরামপুরে কলেজের গার্ড নিখোঁজ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের গার্ড কাম এমএলএসএস রাজকুমার মণ্ডল ৯ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ঘটনায় তার স্ত্রী মিনতি মণ্ডল কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে, অধ্যক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় রাজকুমারকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১২ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত রাজকুমার পাওনাদারদের চাপে আত্মগোপন করে থাকতে পারেন। তবে তার নিখোঁজের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

৮ অক্টোবর মণিরামপুর থানায় দেওয়া অভিযোগে মিনতি মণ্ডল উল্লেখ করেন, ৯ সেপ্টেম্বর কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার স্বামী আর ফেরেননি।

তার অভিযোগ, যাওয়ার আগে রাজকুমার বলেছিলেন, ‘আমার আর মনে হয় চাকরি করা হবে না, বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।’

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি, মানসিক হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন ও মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তাকে চাকরি থেকে অবসর নিতে বাধ্য করার অভিযোগও করেন মিনতি।

তিনি রাজকুমারকে উদ্ধারের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ১০ অক্টোবর থানায় দেওয়া অভিযোগে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান জানান, রাজকুমার ২ সেপ্টেম্বর থেকে কলেজে অনুপস্থিত ছিলেন।

তাকে কর্মস্থলে ফেরাতে একাধিকবার নোটিস দেওয়া হয় এবং তার বাড়িতে কলেজের বিজ্ঞান ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট অমিতাভ বিশ্বাসকে পাঠানো হয়।

৮ অক্টোবর রাজকুমারের ছেলে বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তার বাবা ৯ সেপ্টেম্বর সকালে কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি।

অধ্যক্ষের অভিযোগ, রাজকুমার তাকে আগে জানিয়েছিলেন, তার বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিচ্ছেন।

পরে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং পাওনাদারদের চাপে থাকার বিষয়টিও জানতে পারেন বলে দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজকুমার রূপালী ব্যাংক থেকে চার লাখ ৬৫ হাজার, আদ্-দ্বীন থেকে ৫০ হাজার ও আত্মকর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন।

কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় পাওনাদারদের চাপ বাড়ছিল। তার সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠজনদের কেউ কেউ দাবি করছেন, তিনি নিজেই আত্মগোপন করে থাকতে পারেন।

এদিকে, কলেজ পরিচালনা নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে ঘটনাটির যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মিনতি মণ্ডলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করছেন ননদ যমুনা মণ্ডল।

যমুনা জানান, রাজকুমার তাকে চাকরি নিয়ে চাপের কথা বলেছিলেন। তবে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি জানেন না।

অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, রাজকুমার নিখোঁজ। তার পাওনাদাররা কলেজে এসে টাকা পাওনার অভিযোগ করেছেন। তাকে উদ্ধার করা গেলে নিখোঁজের রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হবে।

মণিরামপুর থানায় দায়ের করা দুটি অভিযোগের তদন্ত করছেন নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বিপ্লব।

তিনি বলেন, ‘অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে উদ্ধার করা গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)