সুবর্ণভূমি ডেস্ক
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৪০ লাখের বেশি (৭৩ শতাংশ) ভোট গণনার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাওয়া বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৭টি আসন। এ ছাড়া আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেতে পারে ১৯টি আসন।
১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১টি আসনের প্রয়োজন। কোনো জোটই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম সাতটি, শাস সাতটি, ওজমা ইয়েহুদিত সাতটি এবং রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি ছয়টি আসন পেতে পারে। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৫৪টি।
অন্যদিকে, বিরোধী জোটের মধ্যে গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১টি, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন বি’ইয়াখাদ ১১টি, ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি আটটি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু সাতটি আসন পেতে পারে; যা মিলিয়ে তাদের মোট আসনসংখ্যা ৪৭।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরব দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১৩টি এবং মানসুর আব্বাসের রা’আম ছয়টিসহ মোট ১৯টি আসন পেতে পারে। এই ফলাফল আরব দলগুলোকে সরকার গঠনের আলোচনায় 'কিংমেকার' অবস্থানে নিয়ে আসতে পারে। তবে বিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতাই আরব দলগুলোকে সাথে নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধী।
নেতানিয়াহু ও আইজেনকটকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা আপাতত কম। আইজেনকট স্পষ্ট জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করবেন না। রাজনৈতিক দলগুলো শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইসরাইলে আবারও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, এবার নির্বাচনে রেকর্ড ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। ১৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নেতানিয়াহুর ভাগ্য এখন চূড়ান্ত ভোট গণনার ওপর নির্ভর করছে।