সুবর্ণভূমি ডেস্ক
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে আরো তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পক্ষে উরুগুয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাড়তি সময়ে কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং প্রতিবছর অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএন-সিডিপি) কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করে সরকার। পরে ইউএন-সিডিপি আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে। গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) সাধারণ পরিষদকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ পাঠায়।
১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে এলডিসি তালিকাভুক্ত হয় বাংলাদেশ। ২০১৮ ও ২০২১ সালের পরপর দুটি পর্যালোচনায় মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা—তিনটি মানদণ্ড পূরণ করে দেশটি। ২০২১ সালে উত্তরণের সুপারিশ অনুমোদনের পর কোভিডের প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশকে পাঁচ বছরের প্রস্তুতির সময় দেওয়া হয়েছিল।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ বিভিন্ন বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পরিবর্তিত হতে পারে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমার আশঙ্কা রয়েছে।
বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনের (আঙ্কটাড) ২০২৫ সালের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাণিজ্য সুবিধা হারালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।