কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মাধ্যমেই মানুষ জানতে পেরেছিল শেখ হাসিনার পলায়নের খবর। তাকে একজন ‘জুলাইযোদ্ধা’ মনে করি। শেখ হাসিনা যখন পালিয়ে যাচ্ছিলেন সেই দৃশ্য তিনি ফেসবুকে শেয়ার করেন। এর মাধ্যমেই দেশের মানুষ জানতে পারে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু পরে একটি পত্রিকায় তাকে ভারতীয় ‘র’-এর এজেন্ট হিসেবে চিত্রায়নের অপচেষ্টা করা হয়, যা দুঃখজনক। তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রোভাইড করা হলো, আর তা তদন্ত না করেই তাকে ‘র’ এর এজেন্ট হিসেবে তুলে ধরলেন।
‘তবে, তাহসিফ মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন যেটি তার একটি পডকাস্টে দেখেছি। তিনি সেই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন; এ কারণে নানা ধরনের জবাবদিহিতার মধ্যে তাকে আনা হয়েছিল,’ বলেন তিনি।
রাশেদ খান আরও বলেন, ‘যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হয়েছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। যে বন্ধুকে ধরা হয়েছে, তিনি সাথেই ছিলেন। ওই বন্ধুর কথা সন্দেহজনক। আশা করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তদন্ত সংস্থা যথাযথ তদন্ত করবে আর এই হত্যার পেছনে কে বা কারা জড়িত—তা বেরিয়ে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘তাহসিফ হত্যার পর আওয়ামী লীগের নগ্ন উল্লাস দেখেছি, ফলে তার হত্যার পেছনে কোনো আওয়ামী গুপ্তচর আছে কি না- সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খতিয়ে দেখবে।’
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট চত্বরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সেইসময় তার সাথে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, জামায়াতনেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেছেন। যার সকল তথ্য প্রমাণ রয়েছে। প্রশ্ন হলো, সারাদিন ভারতের বিপক্ষে বক্তব্য দেন আর রাতের বেলায় ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেন। এটা কখনই তা হতে পারে না।
তিনি বলেন, জামায়াত আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই ভারতের সাথে লিয়াজোঁ শুরু করেছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ যেভাবে ভারত তোষণের রাজনীতি করেছে, জামায়াতও সেই পথে হাঁটছে। সে কারণেই তারা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে বৈঠক করছে। এটা দেশের জনগণ ভালোভাবে নেয়নি।
জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের লং মার্চ নিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘জামায়াত ঢাকা থেকে লং মার্চ নিয়ে কেন গোপালগঞ্জ যাচ্ছে না? তারা কি ভয় পেয়েছে? আওয়ামী লীগকে আপনারা নাকি গোনেনই না, তাদের ছাড়িয়ে নাকি দুই নাম্বার দল হয়ে গেছেন। তাহলে সেই পরীক্ষাটা আপনারা দেন। গোপালগঞ্জে একটা পথসভা করেন।’
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খুলনা বিভাগকে জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল। তবে লং মার্চে খুলনা বিভাগের মানুষ জামায়াতকে লাল কার্ড দেখাবে। কোনো সাধারণ মানুষ এই লং মার্চে অংশ নেবে না।