স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মুড়লি-বকচর সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সড়কের ওপর বাঁশ ফেলে যান চলাচল বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। এই সড়ক দিয়ে মুড়লি হয়ে খুলনা, সাতক্ষীরা, নওয়াপাড়া, মণিরামপুর ও কেশবপুর রুটে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথটি কার্যত বন্ধ থাকায় সব ধরনের যানবাহনকে দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মুড়লি মোড় এলাকায় সড়কের ওপর বাঁশ আড়াআড়িভাবে ফেলে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই পথে চলাচলকারী ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন বাধার মুখে পড়ে। গণপরিবহন না চলায় অনেক যাত্রীকে মাঝপথে গাড়ি থেকে নেমে তপ্ত রোদে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা যায়। কেউ কেউ দীর্ঘ পথ ফিরে গিয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছেন, যার ফলে বাড়তি সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে।
এ সময় রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা আরমান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাসায় যাওয়ার জন্য ইজিবাইকে উঠেছিলাম। মুড়লি মোড়ে আসার পর আমাদের সবাইকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এখন দুপুরের কড়া রোদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। কীভাবে বাসায় যাব, বুঝতে পারছি না।’
মণিরামপুর যাওয়ার উদ্দেশে ওই সড়ক ব্যবহার করতে এসে বাধার মুখে পড়েন মোটরসাইকেল চালক অরিন্দম বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে মণিরামপুর যাওয়ার জন্য এই সড়ক দিয়ে এসেছিলাম। এসে দেখি রাস্তায় বাঁশ ফেলে রাখা হয়েছে। এখন আবার পিছনে ফিরে অন্য সড়ক দিয়ে ঘুরে যেতে হবে। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।’
ইজিবাইক চালক রাশেদুল ইসলাম জানান, যাত্রী নিয়ে রাজারহাট যাওয়ার জন্য মেইন রোড দিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ইমামবাড়ার পাশে ছোট রাস্তা দিয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আগে থেকে বিকল্প সড়কের মুখে ট্রাফিক নির্দেশনা দেওয়া থাকলে চালক ও যাত্রী কাউকেই এভাবে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।’
সড়কে বাঁশ ফেলে যান চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়ে কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, লংমার্চে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ায় মঞ্চের আশপাশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমাবেশস্থলে যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সাময়িকভাবে সড়কটি বন্ধ রেখে যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধ করা হচ্ছে।
এর আগে সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জামায়াত নেতারা লংমার্চের দিন সড়কটি বন্ধ থাকবে জানিয়ে যাত্রীদের বিকল্প পথে যাতায়াতের অনুরোধ করেছিলেন।