স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে যশোর শহরের মুড়লি মোড়ে সমাবেশস্থলের আশপাশের বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনসম্বলিত বড় বড় বিলবোর্ড ও ব্যানার সম্পূর্ণ ঢেকে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, বিলবোর্ডগুলোতে নারী মডেলদের ছবি থাকায় সেগুলোকে ঢেকে দিয়েছেন আয়োজকরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ সরেজমিনে মুড়লি মোড় এলাকায় দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসংলগ্ন ওই সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা জড়ো হচ্ছেন। সমাবেশস্থলের বিপরীত ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন বোর্ডের একটি বড় অংশে লাল ও সবুজ রঙের ত্রিপল টানিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তবে সব বিলবোর্ড বা বিজ্ঞাপন বোর্ড ঢাকা হয়নি; বরং সুনির্দিষ্ট দুটি বিলবোর্ডই ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, ঢেকে দেওয়া একটি বিলবোর্ডে কোহিনূর কেমিক্যালের ফাস্ট ওয়াশ ডিটারজেন্ট পাউডারের বিজ্ঞাপন ছিল। শুক্রবার রাতেও বিলবোর্ডটি উন্মুক্ত ছিল। সম্ভবত নারীদের ছবি থাকায় জামায়াত সেগুলো ঢেকে দিয়েছে।
স্থানীয় আরেক ব্যবসায়ী রেজা হায়দার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতেও বিলবোর্ড উন্মুক্ত দেখেছি। আজ সকালে এসে দেখছি দুটি বিলবোর্ড ঢেকে রাখা হয়েছে।’
নারীদের ছবি থাকায় বিলবোর্ড দুটি ঢেকে রাখা হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, লংমার্চের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা এবং ধর্মীয় অনুভূতি সমুন্নত রাখতে হয়তো বিজ্ঞাপনের ব্যানারে থাকা নারীদের ছবিগুলো ঢেকে দেওয়ার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মধ্যে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানির যশোর অঞ্চলের রিজিওনাল ম্যানেজার বেলাল হোসেন জানান, মুড়লিতে তাদের বিলবোর্ডটি ঢেকে দেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত নন। তবে বাণিজ্যিক কোনো বিজ্ঞাপন সরিয়ে দিতে গেলে বা ঢেকে রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন।
বেলাল হোসেন বলেন, ‘মুড়লি মোড়ে আমাদের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনটি মূলত ফাস্ট ওয়াশ ডিটারজেন্ট পাউডারের। নারী মডেল থাকায় হয়তো সেটি কোনো পক্ষ ঢেকে রেখেছে। তবে এর জন্য আমাদের কাছে কেউ অনুমতি নেয়নি।’
এই বিষয়ে জানতে জেলা জামায়াতের একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।