যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

নড়াইল মহিলা কলেজে এইচএসসির ফল বিপর্যয়

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশ : শনিবার, ৩১ অক্টোবর,২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
আপডেট : শনিবার, ৩১ অক্টোবর,২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
নড়াইল মহিলা কলেজে এইচএসসির ফল বিপর্যয়

নড়াইল জেলার নারী শিক্ষার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হারের তুলনায় কলেজটির ফলাফল অনেকটাই নিম্নমুখী হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছর কলেজটি থেকে মোট ৪১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন মাত্র ১৫৯ জন। অর্থাৎ, মোট ২৫৩ জন পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবিক বিভাগেই বিপর্যয়ের চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। এই বিভাগে ৩২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৪ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগে ৭৬ জনের মধ্যে ৪১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে আটজন অকৃতকার্য হয়েছেন।

জেলার একটি শীর্ষস্থানীয় সরকারি কলেজের এমন হতাশাজনক ফলাফলে প্রকাশ পাওয়ার পর ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদের প্রশাসনিক দুর্বলতা, শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিং, ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা এবং কয়েকজন শিক্ষকের লাগামহীন প্রাইভেট বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কলেজের সার্বিক শিক্ষার পরিবেশে।

অভিভাবকদের একাংশের দাবি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদ কতিপয় শিক্ষক-কর্মচারীর সিন্ডিকেটের পরামর্শে কলেজ পরিচালনা করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। এছাড়া কলেজের প্রধান সহকারী শেখ আব্দুল আলিম অবসরে যাওয়ার পরও তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে দায়িত্বে বহাল রাখা, তার বিরুদ্ধে কলেজের মালামাল সরিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

পাশাপাশি, কলেজের সাবেক সম্পাদক পীযূষকুমার দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম, শিক্ষক সবুজ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে প্রাইভেট বাণিজ্য ও উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাৎ এবং শিক্ষক মন্নু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাইভেট বাণিজ্য ও নারী অপহরণ মামলাসহ নানা গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সচেতন মহলের দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের তদন্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতির এই চরম অবণতি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদ পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ পদে পদায়ন পাওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। অনিয়ম ও ফলাফল বিপর্যয়ের এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি।

তবে এরই মধ্যে কলেজে নতুন দিনবদলের সুবাতাস আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ছায়েম আলী খান কলেজের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার নেতৃত্বে কলেজের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)