স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
দেশে খুন, ধর্ষণ ও চুরির ঘটনায় বিচার হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহিম রনি।
তিনি বলেছেন, সরকার পরিবর্তনের পরও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে বিএনপি সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোরের মুড়লি মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে যশোর শহরের মুড়লি মোড়ে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে ইব্রাহিম রনি বলেন, দেশে চুরি করলে বিচার হয় কি না, খুন করলে বিচার হয় কি না, ধর্ষণের ঘটনায় বিচার পাওয়া যায় কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের এক পৌর সদস্য সচিবকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, ‘এমন নির্লজ্জ, বেহায়া বিএনপি সরকার এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নিয়েছে? অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় জড়িয়ে গেলে বিচার থেমে থাকতে পারে না। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চাকসু ভিপি বলেন, কয়েক দিন আগে পুলিশের আইজিপি বলেছেন, মন্ত্রণালয় বা সরকার নির্দেশ দিলে আবারও ক্রসফায়ার দেওয়া হবে। এ ধরনের বক্তব্য জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছে, সেখানে আবারও এমন পরিস্থিতি ফিরে আসার আশঙ্কা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইব্রাহিম রনি। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের বুকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সময়ের কথা মানুষ এখনো ভুলে যায়নি। যশোরের মাটিতেও জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানো অনেক শহীদ শুয়ে আছেন। ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে কথা বলার কারণে অনেককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যে ক্রসফায়ারের প্রসঙ্গ ফিরে আসা উদ্বেগজনক।
ইব্রাহিম রনি বলেন, নির্বাচনের আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাদের কাছে বিষয়টি ভিন্নভাবে প্রতিভাত হয়েছে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। তারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করা উচিত। শুধু আশ্বাস দিয়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গেও ইব্রাহিম রনি বলেন, ভারত থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার যে ঘোষণা দিচ্ছেন, সেটিকে তিনি দিবাস্বপ্ন মনে করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘অসমাপ্ত কাজ’ সম্পন্ন করার কথাও বলেন তিনি।