ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় এবারও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রি কলেজ। ২০২৬ সালের প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলার ১১টি কলেজের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, কলেজটি জেলা পর্যায়েও অষ্টম স্থান অর্জন করেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এ বছর ২০৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৩৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এছাড়া কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বিএমটি শাখায় ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে; পাসের হার ৮০ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আহসানুর রহমান বলেন, ‘নিয়মিত পাঠদান, টিউটোরিয়াল পরীক্ষা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।’
কলেজের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সুমন টেলিফোনে এই সাফল্যের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে নারীশিক্ষার প্রসারে কলেজের এই ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলার অন্যান্য কলেজের চিত্র
প্রাপ্ত ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঝিকরগাছার অন্যান্য কলেজের ফলাফল তুলনামূলক নিম্নমুখী। সরকারি শহীদ মসিয়ূর রহমান ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ৫৭ শতাংশ হলেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। এছাড়া ঝিকরগাছা মহিলা কলেজে একজন (পাসের হার ৫৩%), নতুনহাট পাবলিক কলেজে ছয়জন (পাসের হার ৫৫%), গঙ্গানন্দপুর ডিগ্রি কলেজে চারজন (পাসের হার ৫৮%) এবং কায়েমকোলা কলেজে দুইজন (পাসের হার ৫৯%) জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, শিমুলিয়া কলেজে দুইজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন; পাসের হার ৫১ শতাংশ। বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ২৩ শতাংশ এবং রঘুনাথনগর কলেজে পাসের হার ২৮ শতাংশ। তবে এই দুটি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার কম হলেও ঝিকরগাছার সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের এই জিপিএ-৫ অর্জন ও সাফল্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।