স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের বাঘারপাড়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের ছাঁটাইয়ের নামে বেশ কয়েকটি মেহগনি গাছের মোটা ডাল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সকাল সাতটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত স্থানীয় চারজন শ্রমিক কলেজ ক্যাম্পাসের গাছের ডালগুলো কেটে ফেলেন।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, শ্রমিকরা ১৬টি মেহগনি গাছের বড় বড় ডাল কেটে ফেলে। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একাংশের নেতাকর্মীরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেলিম রেজা নামে একজন লিখেছেন, ‘বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজের মেহগনি গাছের বড় বড় লগ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। দরপত্র ছাড়াই কলেজ বন্ধের দিনে কীভাবে এমন কাজ করা হলো। প্রিন্সিপ্যাল স্যারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, গভর্নিংবডির সিদ্ধান্ত। ইউএনও স্যারকে ফোন দিলে তিনি বলেন, ছোট ছোট ডাল ছেঁটে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গভর্নিংবডির সভাপতিকে ফোন দিলে বলেন, গাছ কাটা বা বড় লগ কাটার কথা না। আর কলেজের অভিভাবক সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত সভাপতি প্রভাষক আসাদ ভাই, বাচ্চুর রহমান, নাজমুল আল মামুন শের কিছুই জানেন না বলে জানান।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলেজ ক্যাম্পাসের মূল ভবনের সামনে সারিবদ্ধভাবে ২৫টি ছোট-বড় মেহগনি গাছ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের ছায়া দিয়ে আসছে। তবে, শনিবার গাছ ছাঁটাইয়ের নামে সেগুলোর বড় বড় ডাল কেটে ফেলা হয়েছে। এতে গাছগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, গাছের প্রয়োজনীয় ডাল ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে মোটা ডাল কেটে লগ তৈরি করা হয়েছে। এসব লগ বিক্রি করে ‘বিশেষ একটি চক্র’ আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে।
এর আগে বাঘারপাড়া সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে গাছের ডাল ছাঁটাইয়ের নামে বড় বড় লগ কেটে বিক্রির করার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে। একই চক্র কলেজ ক্যাম্পাসের গাছের বড় বড় ডাল কেটেছে বলেও অভিযোগ তাদের। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল মতিনের মোবাইলফোনে কয়েকদফা চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।
তবে, কলেজের সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ বলেন, গাছের ডালের কারণে কলেজের ভবন এবং খেলার মাঠের সমস্যা হচ্ছিল। সে কারণে গাছের ডাল কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গভর্নিংবড়ির সিদ্ধান্তে। বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রমিকদের বলা হয়েছিল ডাল ছেঁটে দেওয়ার। কিন্তু তারা ভুলক্রমে বড় কয়েকটি ডাল কেটে ফেলেছে। আসলে এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের দিন থাকায় প্রিন্সিপ্যাল সেখানে দৃষ্টিতে পারেননি। তবে, যেসব ডাল কাটা হয়েছে, সেগুলো বিধিমোতাবেক বিক্রি করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ভুপালী সরকার বলেন, কলেজ অধ্যক্ষ আবেদন করেছিলেন গাছের ডাল ছাঁটার জন্য। ডালের কারণে খেলার মাঠ ও ভবনের ক্ষতি হচ্ছে আবেদনে উল্লেখ ছিল। এ কারণে ছোট ডাল ছাঁটার অনুমতি দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, কিন্তু পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কাছে জানতে পেরেছি- বেশকিছু গাছের বড় ডাল কাটা হয়েছে। আমি অসুস্থ থাকার কারণে যেতে পারিনি। বিষয়টি তদন্তে রবিবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ তিনজনের কমিটি করা হবে।