যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

‘সেই গাড়িটার নাম টয়োটা, দেশটা জাপান’

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : শনিবার, ৩১ অক্টোবর,২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
আপডেট : শনিবার, ৩১ অক্টোবর,২০২৬, ১১:০৫ পিএম
‘সেই গাড়িটার নাম টয়োটা, দেশটা জাপান’

কৌশলগত উপায়ে মানুষের অভ্যাসে পরিবর্তন এনে নতুন চাহিদা ও বাজার তৈরি করায় হলো মার্কেটিংয়ের মূল কৌশল। তেমনি উন্নয়ন সহায়তার আড়ালে নদীমাতৃক বাংলাদেশে সড়কনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলে জাপান নিজেদের গাড়ির এক বিশাল বাজার নিশ্চিত করেছে। জাপানের কৌশলটা ব্যাখ্যাসহ ফেসবুকে পোস্ট করেছেন কবি, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদ। সুবর্ণভূমির পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো:

মার্কেটিং গুরু ফিলিপ কটলারের একটা বক্তৃতা শুনছিলাম। তিনি বলছিলেন, প্রথম সেলসম‍্যান হলো, সাপের রূপ ধরা শয়তান। ঈশ্বর এডাম ও ইভকে কঠোরভাবে মানা করে দিয়েছিলেন যে গন্দম খেও না। কিন্তু সাপ সামহাউ অর আদার ইভকে রাজি করিয়ে ফেলেন। ইভ এডামকে রাজি করিয়ে ফেলেন। তারা গন্দম খান। এবং এর ফলে পৃথিবীতে মানুষের আবাদ শুরু হয়।

বড় বড় মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজির গল্পগুলো বেশ কৌতুহল উদ্দীপক।

ভারতীয় উপমহাদেশে চা কীভাবে চালু হয়েছিল সেটা সবার জানা। প্রথমে মুফতে খাওয়ানো হতো। পরে নেশা হয়ে গেলে বিক্রি শুরু হয়। শত শত বছর জুড়ে চলমান লাখ কোটি টাকার বিজনেস চালু হয়ে যায়।

একজন উদ‍্যোক্তার গল্প শুনছিলাম। তিনি এমন একদেশে কফি চালু করতে চেয়েছিলেন যেখানকার লোকেরা মোটেও কফি খায় না। তিনি শুরুতে স্কুলের ছেলেমেয়েদের মধ‍্যে কফি ফ্লেভারের ক‍্যান্ডি বিলি করতে শুরু করলেন। এই ছেলেমেয়েরা যখন বড় হলো তখন তিনি কফি বেচতে শুরু করলেন। তরুণরা ছোটবেলায় খাওয়া ক‍্যান্ডির সাথে কফির স্বাদ ও গন্ধ রিলেট করতে পারলো। কফি কালচারহীন দেশে কফি চালু হলো।

একবার এক ভারতীয় মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজিস্টের সাক্ষাৎকার পড়ছিলাম। তিনি আইসক্রিম কোম্পানিতে কাজ করতেন। কিন্তু আইসক্রিমের ব‍্যবসা বাড়ছিল না। শহর এলাকায় সীমাবদ্ধ আইসক্রিম ব‍্যবসা সম্প্রসারিত করতে তিনি কোম্পানির পক্ষ থেকে দোকানগুলোতে ফ্রিজ সরবরাহের ব‍্যবস্থা নিলেন। পরিবর্তন হলো যুগান্তকারী। গ্রাম পর্যন্ত আইসক্রিম কালচার ছড়িয়ে পড়লো। পরে কোল্ড ড্রিংক্স কোম্পানিগুলোসহ অনেকে এ পথ ধরলো।

স‍্যাশে বা মিনিপ‍্যাক আবিষ্কারও ছিল এমন যুগান্তকারী বাণিজ্যিক পদক্ষেপ।

এরকম বহু ইনোভেশন আপনি আশপাশে দেখতে পাবেন। আবার চোখের সামনে ঘটলেও অনেক কিছু আপনি খেয়াল করতে পারবেন না।

উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব‍্যবস্থার কথা বলা যায়। বাংলাদেশ নদীবহুল দেশ। এদেশে যোগাযোগের কেন্দ্রে থাকার কথা নদীপথগুলোর। সময়ের সাথে সাথে নদীপথে আধুনিক প্রযুক্তির নৌযান আসার কথা। নদীপথ, ঘাট এগুলোর উন্নতি হওয়ার কথা। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে নদীপথগুলো সংকুচিত হয়ে আসছে। নৌযান বন্ধ হচ্ছে। তার বদলে সড়কপথ ও সড়ক যান হয়ে পড়ছে প্রধান অবলম্বন। এমনকি রেলের দিকেও কারও নজর নেই। আওয়ামী লীগ আমলে ভারতের যতটুকু দরকার ছিল ততোটুকুতে মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল।

এখন প্রশ্ন হলো, নৌ, রেল, বিমানের বদলে বাংলাদেশে যে সড়ক যোগাযোগরকে প্রধান করে তোলা হবে এই স্ট্র‍্যাটেজি কে বা কারা তৈরি করেছিল?

হাজার বছর ধরে ঢাকা-চট্টগ্রামের যোগাযোগ ছিল নৌপথে অথচ এখন নৌপথে যাত্রী পরিবহনের ব‍্যবস্থা থাকবে না সে পরিকল্পনা কারা করেছিল?

উত্তর হলো, একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ।

এই দেশটি উন্নয়ন সহায়তা, ঋণ ইত‍্যাদির মাধ‍্যমে বাংলাদেশে সড়ক পথের উন্নয়নে বহু বছর ধরে কাজ করে আসছে। সারাদেশে প্রায় সব নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করেছে। নদীপথে বিকল্প তৈরি করে সড়ক নির্ভর করে তুলেছে এখানকার মানুষকে।

এসব অবকাঠামো নির্মাণ করে লাভ তুলেছে, ঋণের কিস্তি পেয়েছে, সুনামও কিনেছে। মাঝখান থেকে আমরা হারিয়েছি নদীপথের বিশাল, সুলভ ও ঐতিহ্যবাহী কানেকটিভিটি ও স্মৃতি। আর সড়ক ও সেতুর উন্নয়নের ফলে পরিণত হয়েছি সেই দেশের গাড়ির বাজারে।

সেই গাড়ির নাম টয়োটা।

আর দেশটির নাম জাপান।

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)