মেহেরপুর প্রতিনিধি
আধুনিক চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও কুসংস্কারের বলি হয়ে প্রাণ হারালেন কৃষক রুহুল আমিন (৫৫)।
এই ঘটনাটি ঘটেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পুরাতন মটমুড়া গ্রামের মাঠপাড়া এলাকায়। তিনি ওই গ্রামের আনছার মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে বাড়ির পাশের মাঠে গিয়েছিলেন রুহুল। সেখানে তাকে সাপে কামড়ায়।
পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় ওঝা-কবিরাজদের ডাকেন। একই গ্রামের ওঝা সানোয়ার হোসেন, ইরফান আলী ও সাদেক রাতভর ঝাড়ফুঁক করে দাবি করেন, এটি বিষধর সাপের কামড় নয়। রাত নয়টা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তথাকথিত ‘বিষ নামানোর’ চেষ্টা।
রাত ২টার দিকে তারা জানান, রুহুলের শরীরে কোনো বিষ নেই এবং তিনি সুস্থ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই রুহুল আমিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি। ভোররাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ওঝারা বলেছিল কোনো ভয় নেই, তাই হাসপাতালে নিতে দেরি হয়েছে। পরে যখন অবস্থা খারাপ হয়, তখন নিয়ে যাই, কিন্তু আর বাঁচানো যায়নি।’
এ ঘটনায় ওঝাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল আজিজ বলেন, এখন আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় সাপে কাটা রোগীর জন্য কার্যকর ওষুধ রয়েছে। কিন্তু অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে মানুষ এখনো ওঝার ওপর নির্ভর করে। এতে অনেক প্রাণ ঝরে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই একমাত্র সঠিক সিদ্ধান্ত।
গাংনী থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।