সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সুন্দরবন উপকূলের উন্নয়নে পৃথক বোর্ড ও মন্ত্রণালয় গঠনসহ সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির ২১ দফা বাস্তবায়নে সংবাদ সম্মেলন করেছে সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটি।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
নাগরিক কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাতক্ষীরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি জেলা। বছরে পাঁচ লক্ষাধিক মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়। ২৮ হাজার মেট্রিক টন বিদেশে রপ্তানিযোগ্য চিংড়িসহ গড়ে দেড় লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টন দুধ, প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টন শীতকালীন শাক-সবজি, ৭৫ হাজার মেট্রিক টন আম, ১৫ হাজার মেট্রিক টন কুল, প্রায় ১০০ মেট্রিক টন মধুসহ বিপুল পরিমাণ অন্যান্য রবিশষ্য উৎপাদন হয়। এছাড়া ভোমরা স্থল বন্দর হতে বছরে গড়ে এক হাজার কোটি টাকাসহ সুন্দরবন ও মৎস্য সম্পদ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কিন্তু এই জেলা ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীর ভাঙন, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততাসহ ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জর্জরিত। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে এখানকার উন্নয়ন টেকসই হয় না। জলবায়ু পরিবর্তনে পরিবেশগত ঝুকি, সুপেয় পানির সংকট, কৃষি জমির পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। দারিদ্র্য হার দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে অনেক বেশি। শিক্ষার হারও কমে যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৩ শতাংশ হলেও সাতক্ষীরা জেলায় এই হার কমে ০.৯০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এর প্রধান কারণ ব্যাপক সংখ্যক মানুষ কাজের সন্ধানে স্থায়ী-অস্থায়ীভাবে অন্যত্রে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এই মানুষের মিছিলের একটি অংশ সাতক্ষীরা শহরে চলে আসছে। ২০২২ সালের জনশুমারীর তথ্যানুযায়ী, সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যােএক লাখ ৩৮ হাজার উল্লেখ করা হলেও বর্তমানে তা দুই লাখ অতিক্রম করেছে।
জেলা নাগরিক কমিটি দাবি তুলে বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘সুন্দরবন উপকূলীয় বোর্ড ও মন্ত্রণালয় গঠন’ এবং আসন্ন বাজাটে এই অঞ্চলের উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রেল লাইন, আয়তন ও জনসংখ্যা বিবেচনায় নতুন একটি উপজেলা প্রতিষ্ঠা, ভোমরা স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে এবং বসন্তপুর নৌবন্দর চালু করা, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, পর্যটন এলাকা ঘোষণা, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, বিকল্প বাইপাস, শ্রমঘন বিশেষ শিল্পাঞ্চল, লবণাক্ত, আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল স্থাপন, উপজেলাভিত্তিক স্টেডিয়াম, বিআরটিসির বাস সংখ্যা বাড়ানো, চলাচলে অযোগ্য সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার, সাতক্ষীরা জেলা ও পৌরসভার উন্নয়নে মাস্টার প্লান, আইটি সিটি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নদী ভাঙন ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা, জলবায়ু উদ্বাস্তুু আবাসনকেন্দ্র, জেলার সকল নদী-খালের জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনাসহ ২১ দফা দাবি জানাই।
নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলি নুর খান বাবুলের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষাবিদ আব্দুল হামিদ, হেনরি সরদার, মাধবচন্দ্র দত্ত, আবুল হোসেন, স্বপন কুমার শীল, শেখ হারুন অর রশিদ, কল্যাণ ব্যানার্জি প্রমুখ।