স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের জেস টাওয়ারে অবস্থিত ‘টেক স্টল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রানা হামিদের বিরুদ্ধে চীন থেকে পণ্য আমদানির নামে অর্থ আত্মসাৎ, লটারির নামে গ্রাহক ঠকানো এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্ধকোটি টাকা লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার এমন কর্মকাণ্ডে যশোরের সুপরিচিত কম্পিউটার সিটির ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের শেষের দিকে রানা হামিদ তার প্রতিষ্ঠান টেক স্টলের পক্ষ থেকে একটি লটারির ঘোষণা দেন। শর্ত ছিল, এক বছরের মধ্যে এক হাজার ২০০ পিস ল্যাপটপ বিক্রি হলে লটারির মাধ্যমে গ্রাহকদের পুরস্কৃত করা হবে। এতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল দেওয়ার ঘোষণা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর আরও ছয় মাস কালক্ষেপণ করা হয়। শেষপর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী সংগঠন বা মার্কেট কমিটিকে না জানিয়ে, অত্যন্ত গোপনে দোকানের শার্টার বন্ধ করে লটারির ড্র সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ল্যাপটপ কেনার সময় রানা হামিদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ড্র’র আগে সবাইকে জানানো হবে। কিন্তু অতি গোপনে কার্যক্রম সম্পন্ন করায় এটিকে প্রতারণা হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা।
শফিকুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি তিনটি ল্যাপটপ কিনেছিলেন। লটারির খবর জানতে বারবার যোগাযোগ করলেও তাকে কিছু জানানো হয়নি। পরে তিনি জানতে পারেন, নিজেদের মধ্যে গোপনে লটারি শেষ করা হয়েছে এবং প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন ঢাকার এক ব্যবসায়ী। এমনকী ড্র হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও প্রথম পুরস্কারের মোটরসাইকেলটি এখনো জেস টাওয়ারে পড়ে থাকায় এই প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে সন্দেহ আরও ঘণীভূত হয়েছে।
শুধু লটারি নয়, রানা হামিদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। তিনি ব্যবসা শুরুর আগে চীন যাওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা ধার নিয়ে তা ফেরত দিচ্ছেন না। এছাড়া জেস টাওয়ারে দোকান নেওয়ার পর তিনি ‘ই-বিপনী’ নামে একটি অফারভিত্তিক ব্যবসা চালু করেন। সেখানে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে মোটরসাইকেল দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো। এই স্কিমের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করা হলেও অধিকাংশ গ্রাহক পণ্য বা টাকা কোনোটিই পাননি।
মেহেদি হাসান নামে এক ভুক্তভোগী জানান, একটি ডিসকভার মোটরসাইকেলের জন্য এক লাখ ২ হাজার টাকা দিয়ে তিনি গাড়ি বা টাকা কোনোটিই পাননি। আব্দুল মুকিত নামে আরেকজন দেড় লাখ টাকা দিয়ে একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
মার্কেটের প্রায় ৯০ শতাংশ দোকানদার এই ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, লটারির নামে দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করায় পুরো মার্কেটের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী বলেন, রানা হামিদের কারণে জেস টাওয়ারের দীর্ঘদিনের অর্জন মলিন হচ্ছে। ব্যবসায়ী সমিতির উচিত দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
অভিযোগের বিষয়ে রানা হামিদ বলেন, লটারিতে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। আমরা লাইভ করে পুরস্কার বুঝিয়ে দিয়েছি।
‘ই-বিপণী প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সেটি তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান নয় এবং তিনিও সেখানে ভুক্তভোগী। প্রায় ৪৩ লাখ টাকা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়েছে এবং তিনি মামলা করেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জেস টাওয়ার কম্পিউটার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, রানা হামিদের কর্মকাণ্ডে যশোরের কম্পিউটার ব্যবসায়ীরা বিব্রত। তিনি বলেন, গ্রাহকদের সঙ্গে অবশ্যই প্রতারণা করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে আমরা কয়েক দফা বৈঠক করেছি। নতুন করে লটারির যে পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে, সেটি নিয়েও আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবো।