তারেক মাহমুদ
, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহে প্রাইমারি স্কুলের প্রাচীর ঘেঁষে তামাকপাতা প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র স্থাপন করায় বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। অন্য পাশে রয়েছে ইটভাটা। ইটভাটা আর তামাকের বাইনের ধোঁয়ায় শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করছে। মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ছে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজ রোডে গিলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ বিদ্যালয়ে ২১৬ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সীমানা প্রাচীরঘেঁষে রয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপের তামাক বাইন সেন্টার। প্রতিদিনই জেলার কৃষকদের কাছ থেকে তামাক কিনে এখানে আনা হয়। রাস্তার অপর পাশ ঘেঁষে রয়েছে ‘মেসার্স নাহার ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটা।
বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটা ও তামাক প্রক্রিয়াজাত করায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসে বইয়ের ঘ্রাণের পরিবর্তে নিচ্ছে দূষিত বাতাস। দিনের পর দিন এমন দূষিত পরিবেশ শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, দীর্ঘদিন ধরে সীমানা প্রাচীরঘেঁষেই চলছে এই তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
আবুল খায়ের গ্রুপের বাইন সেন্টারের অ্যাসিটেন্ট ম্যানেজার কনকচন্দ্র সরকার বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি নিয়ে আপনি প্রথম কথা বললেন।’
এ সময়ে তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালঘেঁষে তামাক প্রক্রিয়াকরণ সেন্টার কীভাবে তৈরি হয়- এমন প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরা। স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশের ক্ষতি এসব কারও অজানা নয়। তবু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। চিকিৎসকদের মতে, তামাকের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে ধরা না পড়লেও শরীরের ভেতরে ধীরে ধীরে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে; যা দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসানুজ্জামান সোহাগ জানান, তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের মওসুমে হাওয়ায় ভেসে আসা তীব্র গন্ধে স্কুলে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়। শিশুরা কষ্ট পায়। বিদ্যালয়ের মাঠের এক প্রান্তে থাকা টিউবওয়েলে যেতে পারে না তারা। অনেক সময় বাচ্চা ও তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ দেয়। কিন্তু কোনো প্রতিকার হয় না।
তিনি বলেন, যখন ভাটায় ইট পোড়ানো কাজ শুরু হয় তখন সমস্যা আরো বেড়ে যায়। অন্যদিকে, রাস্তার ওপর লাইন দিয়ে তামাকের গাড়ি রাখায় বাচ্চাদের চলাচলেও সমস্যা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিদর্শনে এসেছিলেন। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়ে গেছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিথিলা ইসলাম বলেন, তামাকপাতার মধ্যে থাকা নিকোটিন ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ অবস্থাকে ‘গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস’ বলা হয়। এতে বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। কম বয়সে এমন বাতাসের সংস্পর্শে এলে দীর্ঘ মেয়াদে শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুস্তাসির রহমান বলেন, ‘আবুল খায়ের গ্রুপের বাইন সেন্টারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হবে। যার অনুলিপি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে দেবো। অবশ্যই একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নিশ্চিত থাকেন।’
এ নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তারেক হাসান জানিয়েছেন, সমস্যা হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।