যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সুবৃহৎ সাতমাইল পশুহাটের ইজারামূল্য অর্ধেকেরও কম!

বিশেষ প্রতিনিধি

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৫ মে,২০২৬, ১২:০০ পিএম
সুবৃহৎ সাতমাইল পশুহাটের ইজারামূল্য অর্ধেকেরও কম!

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া-সাতমাইল পশুহাটের সাম্প্রতিক ইজারা মূল্য নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়লেও দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই পশুহাটের ইজারা মূল্য এবার অর্ধেকেরও কম হয়েছে। এতে করে সরকার হারাবে মোটা অঙ্কের রাজস্ব।

গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে হাটটির ইজারা সম্পন্ন হয়। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে কুদ্দুস আলী বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি তিন কোটি ৮০ লাখ টাকায় এক বছরের জন্য ইজারা লাভ করেছেন।

এর আগে সবশেষ (১৪৩০ বঙ্গাব্দ) ডাক অনুযায়ী হাটের ইজারা মূল্য ছিল দশ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ১৪৩১ ও ১৪৩২ এই দুই বছর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও ইজারায় কাউকে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়। সেইকারণে ওই দুই বছর স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে খাস আদায় করা হতো।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট গরু ব্যবসায়ীরা যেন হাটে না আসতে পারে, সেলক্ষ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে বাধা সৃষ্টি করতো। সেকারণে খাস আদায়ও সেসময় কম হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এবার ইজারা মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ স্থানীয় সিন্ডিকেটের প্রভাব। একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে প্রতিযোগিতা কমিয়ে ইজারার দর নিচে নামিয়ে এনেছে।

হাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সবচেয়ে বড় যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ার সাতমাইল পশুর হাট। বাংলা ১৪২৮ সালে এ পশুর হাটের ইজারা ডাক ছিল সাড়ে আট কোটি টাকা, ১৪২৯ সালে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ও ১৪৩০ সালে এ হাটের ডাক ছিল দশ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দা এবং হাটের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল সাতমাইল পশুর হাটের ইজারা শেষ হয়। এরপর ওই বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে সম্পূর্ণ ইজারাবিহীন হাটটি প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে চালাতেন বাগআঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস কবির বকুল ও কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান ফিরোজ টিংকু। ব্যাপারিরা তিন হাজার টাকা দিয়ে কার্ড গ্রহণ করলেও গরুপ্রতি তাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে এবং সাধারণ ক্রেতাদের কাছে থেকে গরুপ্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা আদায় করা হতো। অথচ গরু হাট ইজারা না হওয়ায় সরকারি পাস মূল্য ছিল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। সেইসময় তারা লাখ লাখ টাকা আয় করেন।

৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরে আওয়ামী লীগের ওইসব নেতা গা ঢাকা দিলে ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে হাটটি দুইদিন পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু কার্ডের কোনো সুবিধা পাননি ব্যাপারিরা। হাটে কার্ডধারী ও সাধারণ ক্রেতাদের একই মূল্যে প্রতিটি গরুর পাস শুরু হলে ক্ষুব্ধ হন ব্যাপারিরা। তারা আন্দোলন শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় ওই বছরের ২০ আগস্ট হাটটি বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। অবশ্য, মাসখানেক পর ২০ সেপ্টেম্বর ফের চালু হয় হাটটি।
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর হাটের অলিখিত দায়িত্ব পান স্থানীয় বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও সপ্তাহে দুইদিন (মঙ্গল ও শনিবার) হাট বসতো।

হাটে পশুপ্রতি সরকার নির্ধারিত ফি ৪২৫ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা হলেও নেওয়া হতো ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা। সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হতো দেড় লাখ টাকার মতো। সেইসময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন, সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করেই জাহাঙ্গীর হোসেনসহ কয়েকজন প্রতি হাটে ন্যূনতম পাঁচ লাখ টাকা আয় করতেন।

২০২৫ সালের মে মাসে শার্শা উপজেলার তৎকালীন ইউএনও কাজী নাজিব হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩০ সালে হাটের ইজারা ডাক হয় দশ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ১৪৩২ সালের জন্যে বিজ্ঞপ্তি (২৯.০১.২০২৫) দেওয়া হলেও কেউ দরপত্র ক্রয় ও দাখিল করেননি।

২০২৬ সালের ইজারাদার কুদ্দুস আলী বিশ্বাস বলেন, ‘নিয়ম মেনেই সর্বোচ্চ দর দিয়ে ইজারা নিয়েছি। গতবার প্রতি হাটে উপজেলা প্রশাসন পেতো তিন লাখ ৩১ হাজার টাকা করে। কিন্তু এবার থেকে প্রতি হাটে পাবে প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা (বছরে তিন কোটি ৮০ লাখ টাকার মতো)। অর্থাৎ, গতবারের চেয়ে এবার প্রতি হাটে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বেশি পাবে সরকার।’

সবশেষ ইজারা মূল্য দশ কোটি টাকার বেশি হলেও এবার এতো কম কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ইজারাদার কুদ্দুস আলী বিশ্বাস বলেন, ‘আগে এই হাটে ইনডিয়ান গরু আসতো, তখন ব্যবসা ভালো ছিল।’

এসব বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, গতবছরও ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তিনজন টেন্ডার ক্রয় করলেও সাবমিট করেননি। সেকারণে গত বছর (১৪৩২) খাস আদায়ের মাধ্যমে হাট পরিচালনা করা হয়। কিন্তু একটি সিন্ডিকেট এই হাট যাতে ভালোভাবে না চলে, সেই উদ্দেশ্যে গরুসহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে আটকে দিতো। গত বছর প্রতি হাটে খাস আদায় প্রায় তিন লাখ ৩১ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, এবার সাতজন টেন্ডারে অংশ নেন। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে সবাই অংশ নেননি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন