স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করায় সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়েছেন পরিবেশক আব্দুল আল ফারুক। তিনি ইউনাইটেড গ্রুপের ‘আইগ্যাস’ যশোর জেলায় বাজারজাত করেন। বর্তমানে বাজারে অন্য কোম্পানির তুলনায় আইগ্যাসের দাম কম হওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে এর চাহিদা বেড়েছে। ফলে খুচরা বিক্রেতারাও এই কোম্পানির দিকে ঝুঁকছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, দোকানে আইগ্যাস রাখলে অন্য কোম্পানির এলপিজি দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিচ্ছেন বেশ কয়েকজন পরিবেশক।
পরিবেশক আব্দুল আল ফারুক জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্যাস বিক্রি করায় যশোরের কয়েকজন অন্য কোম্পানির পরিবেশক খুচরা বিক্রেতাদের সাথে অসহযোগিতা করছেন। তারা বলছেন, আইগ্যাস নিলে অন্য কোম্পানির গ্যাস খুচরা বিক্রেতারা নিতে পারবেন না।
তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘বর্তমান ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ মানুষ এলপিজি ক্রয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সেখানে আমরা কম রেটে কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কিনে বাজারে কম দামে দিচ্ছি। কিন্তু অন্য কোম্পানির কয়েকজন পরিবেশক বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইগ্যাসের দাম কম হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে চাহিদা বেড়েছে। ফলে যারা উচ্চমূল্যে গ্যাস বিক্রি করছেন তাদের বিক্রি কমে যাচ্ছে। এজন্য একজোট হয়ে তারা খুচরা বিক্রেতাদের হুমকি দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেটের এমন প্রভাবের ফলে সাধারণ ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারাও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যশোরে কোম্পানিভেদে খুচরা পর্যায়ে এলপিজি গ্যাস এক হাজার ৯৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে বসুন্ধরা দুই হাজার ২০ টাকা এবং ওমেরা এক হাজার ৯৫০ টাকা, ক্লিনহিট দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত ১৯ এপ্রিল সরকার ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করে দেয় এক হাজার ৯৪০ টাকা, যা আগে ছিল এক হাজার ৭২৮ টাকা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আইগ্যাস ১২ কেজির সিলিন্ডার এক হাজার ৭৯০ টাকায় বাজারজাত করছে, যা খুচরা পর্যায়ে এক হাজার ৮৫০ টাকা থেকে এক হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আইগ্যাসের লিকুইডের মান ভালো এবং দাম কম হওয়ায় গ্রাহকের চাহিদা বেড়েছে। তবে নানা প্রতিবন্ধকতায় তারা এই এলপিজি বিক্রি করতে পারছেন না।
সোহাগ হোসেন নামে একজন খুচরা বিক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘আইগ্যাস বিক্রি করতে গেলে আমরা বিড়ম্বনায় পড়ছি। অনেক ডিলার আইগ্যাস বিক্রি করতে নিষেধ করছেন। দোকানে আইগ্যাস থাকলে অন্য কোম্পানির মাল দিচ্ছেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্য কোম্পানির থেকে এই গ্যাসের দাম প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কম। আবার মানের দিক দিয়েও ভালো। আমরা ডিজিটাল মিটারে মেপে দেখেছি, যেখানে অন্য কোম্পানির লিকুইড অনেক সময় ১২ কেজির কম থাকে, সেখানে আইগ্যাসে আমরা কখনো কম পাইনি। সার্ভিস ভালো পাওয়ায় ক্রেতারাও এই পণ্য চাচ্ছে। কিন্তু অন্য ডিলারদের চাপে আমরা বিক্রি করতে পারছি না।’
মো. রফিকুল ইসলাম নামে আরেকজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘বিগত এক মাস যাবত বেশ কয়েকজন ডিলার আমাদের আইগ্যাস নিতে বাধা দিচ্ছেন। এখন শুধুমাত্র একটা কোম্পানির গ্যাস দিয়ে তো আর আমরা দোকান চালাতে পারবো না। বাধ্য হয়ে আমরাও নেওয়া বন্ধ করেছি।’
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যশোর জেলা এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা। তিনি বলেন, প্রতিটি কোম্পানির স্বাধীনভাবে ব্যবসা করার অধিকার আছে। যেসকল পরিবেশক এমন আচরণ করছেন তারা অন্যায় করছেন। সমিতির পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে পরিবেশকরা সিন্ডিকেট করে খুচরা বিক্রেতাদের হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন যমুনা, সান, টোটাল, বেক্সিমকো এবং বিএম কোম্পানির যশোরের পরিবেশক ফশিয়ার রহমান। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আইগ্যাস কম দামে কিনে অনেকেই দামি গ্যাসের সিলিন্ডারে ক্রস রিফিলিং করছেন। এটি বন্ধ করার জন্য আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা আইগ্যাস নিচ্ছেন তাদের বলে দেওয়া হয়েছে যে, অন্য কোম্পানির গ্যাস দেওয়া হবে না।’