রায়হান সিদ্দিক
, যশোর
দেশের অন্যতম প্রাচীন জনপদ যশোর। কালের বিবর্তনে এই জনপদ আধুনিকতার বহুরূপী ছোঁয়া পেয়েছে। তেমনি কালের গহ্বরে হারিয়ে গেছে অজানা বহু ইতিহাস, যার প্রামাণ্য দলিল নেই খোদ সরকারি দপ্তরেও। তেমনি এক অজানা ইতিহাসের খোঁজে নেমেছিল সুবর্ণভূমি।
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহ। যেই ময়দানে মুসলিম উম্মাহর পবিত্র দুটি ঈদের জামাতে মিলিত হন হাজারো মানুষ। এছাড়াও রাজনৈতিক সমাবেশ, ওয়াজ মাহফিলসহ বড় অনুষ্ঠান আয়োজনে শহরের কেন্দ্রস্থলের দুটি স্পটের একটি এই ঈদগাহ। প্রশ্ন হলো, কবে, কীভাবে এখানে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহটি গড়ে উঠলো? কোন প্রয়োজনে কে নিয়েছিলেন মহতী এই উদ্যোগ? কেন্দ্রীয় ঈদগাহটি কি শুধুমাত্র সময়ের প্রয়োজনে নির্মিত হয়েছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে অজানা কোনো ইতিহাস?
ইতিহাস বলছে, একসময় যশোরের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল মুড়লিতে; তখন এই এলাকাকে বলা হলো ‘মুড়লী কসবা’। ১৭৮১ সালে যশোর যখন বাংলার প্রথম জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তখন প্রথম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিলম্যান হেঙ্কেল ভৈরব নদের তীরবর্তী মুড়লি এলাকাকে জনপদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সেই সময় মুড়লি ছিল একটি সমৃদ্ধ জনপদ, যেখানে প্রাচীন জোড়া শিবমন্দির এবং খানজাহান আলী ও দানবীর হাজি মুহম্মদ মহসিনের স্মৃতিবিজড়িত নানা স্থাপনা জনপদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব জানান দিতো। হেঙ্কেল সেখানেই তার আদালত ও বাসভবন স্থাপন করে জেলার শাসন পরিচালনার কাজ শুরু করেন।
তবে মুড়লিতে শহর পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। নিচু এলাকা হওয়ায় বর্ষাকালে সেখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো এবং এলাকাটি অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠার পাশাপাশি মশাবাহিত রোগ ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে। এই প্রতিকূলতা দূর করতে হেঙ্কেল প্রশাসনিক কাঠামো মুড়লি থেকে কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে তুলনামূলক উঁচু ও নিরাপদ ভূমি ‘কসবা’ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই স্থানান্তরের অন্যতম প্রধান স্মারক হলো ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ভবন, যেটি পরবর্তীতে জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। জেলা কালেক্টরের কার্যালয়কে ঘিরে কসবায় একের পর এক নির্মিত হতে থাকে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের ভবন। ইংরেজদের প্রাধান্য থাকায় এলাকাটি তখন ‘সাহেবগঞ্জ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সঙ্গত কারণেই এর কাছাকাছি এলাকায় ইংরেজ শাসকদের সরকারি বাসভবন, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়, বসতি, মিশনারি স্কুল, হাসপাতাল এমনকি কবরখানাও গড়ে ওঠে। এরও পর কাছাকাছি স্থানে সময়ের প্রয়োজনে নতুন কালেক্টরেট ভবন গড়ে তোলা হয়, যা এখনও জেলার প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।
তবে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর এলাকাটি এক নতুন গুরুত্ব পায়। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর যখন পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়, তখনই মূলত এই জনপদটি পূর্ণাঙ্গ ‘মুসলিম প্রশাসনিক কেন্দ্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে সে সময়েও এই অঞ্চলে নির্দিষ্ট কোনো ঈদগাহ ছিল না, তখনও ঈদের বৃহৎ জামাত মুড়লি ইমামবাড়ায় অনুষ্ঠিত হতো বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। এই ইমামবাড়াটি এখনও মুসলিম শিয়া সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।
এমন প্রেক্ষাপটে শহরের কেন্দ্রে একটি বড় ঈদগাহের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় সর্বমহলে। এই অভাব পূরণে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন শহরের বিখ্যাত কারবালা গোরস্থানকেন্দ্রিক ওয়াকফ এস্টেটের খাদেম মমতাজ উদ্দীন, যাকে যশোরের মানুষ ভালোবেসে ডাকতেন ‘পাগলা মৌলভি’ হিসেবে। সরকারি নথিতে কেন্দ্রীয় ঈদগাহের কোনো ইতিহাস না মিললেও সুবর্ণভূমির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নানা তথ্য।
১৯১২ সালে জন্মগ্রহণ করেন মমতাজ উদ্দীন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হিসেবে এই অঞ্চলে তার বেশ খ্যাতি ছিল। পারিবারিক সূত্র এবং প্রবীণ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৬০ থেকে ১৯৬২ সালের মধ্যে কোনো এক সময়ে ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি। সে সময়ে বর্তমান ‘কেন্দ্রীয় ঈদগাহটি’ খালি পড়ে ছিল। স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় পরিত্যক্ত জমিটিকে ঈদগাহে রূপান্তরে ‘পাগলা মৌলভি’ খ্যাত মমতাজ উদ্দীন প্রধান ভূমিকা নেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে রাবেয়া বেগম। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ।
রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমি তখন অনেক ছোট। আব্বা ওই জায়গায় ঈদগাহ নির্মাণের জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন। প্রথম দিকে ঈদগাহ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। কারণ জমিটা একটা ব্যাংকের ছিল। সরকার ওখানে ব্যাংকের বড় ভবন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আব্বা ছিলেন নাছোড়বান্দা। যতটুকু মনে পড়ে, ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন আব্বা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আব্বা দীর্ঘদিন ঈদগাহের জন্য লড়াই করেছেন। বর্তমানে এটি শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে সময় আব্বা ঈদগাহ বানানোর জেদ না ধরলে আজ হয়তো এখানে বড় কোনো বহুতল ভবন থাকতো।’
তবে সুবর্ণভূমির কাছে আক্ষেপ করে রাবেয়া বলেন, ‘অথচ আব্বার নাম কোথাও নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কখনো আমাদের সাথে এই বিষয়ে কেউ যোগাযোগ করেনি।’
তিনি জানিয়েছেন, পীরনূর বোরহানশাহ কারবালা ওয়াকফ এস্টেটের প্রতিষ্ঠাতা খাদেম ছিলেন তিনি। বর্তমানে কারবালা পুরাতন মসজিদের সামনে তার কবর রয়েছে। ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৫ বছর পর ১৯৮৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন মমতাজ উদ্দীন।
প্রতিবছর যশোর শহরে দুই ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় এই কেন্দ্রীয় ঈদগাহে। এর জন্য যে অর্থ ব্যয় হয়, তা মূলত আসে পৌরসভার তহবিল থেকে।
যশোর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও শহরের অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তি অ্যাডভোকেট মো. ইসহক জানান, ঈদগাহটি পাকিস্তান আমলেই প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় ‘পাগলা মৌলভি’ এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় সরকারিভাবে ঈদগাহের সংস্কার কাজ করা হয়েছে। ঈদগাহটি নির্মাণ হওয়ার পর থেকেই এটি ‘কেন্দ্রীয় ঈদগাহ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
সুবর্ণভূমিকে তিনি বলেন, ‘‘মূল ইতিহাস আমার জানা নেই। তবে এই কেন্দ্রীয় ঈদগাহের জমিটি পাকিস্তান আমলে ‘ট্রেডিং ব্যাংকের’ মালিকানায় ছিল বলে বিভিন্ন সময় জানতে পারি। যেহেতু জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল, তখন পাগলা মৌলভি স্থানীয় কয়েকজনকে সাথে নিয়ে জায়গাটা পরিষ্কার করে নামাজ পড়ার উপযোগী করে তোলেন। পরবর্তীতে এই জায়গাটি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়।’
‘স্বাধীনতার পর থেকেই ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক। আর বিভিন্ন সময় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অ্যাডভোকেট শহীদ শামসুর রহমান, অ্যাডভোকেট মশিয়ার রহমান, অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, অ্যাডভোকেট ছবির আহমেদ এবং সর্বশেষ প্রায় ২০ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন মোস্তানুর রহমান।
প্রবীণ শিক্ষক আনছার বিশ্বাস বলেন, এখানে বড় বড় বটগাছ আর ঝাউগাছ ছিল। ওই ‘পাগলা মৌলভি’ সব পরিষ্কার করে প্রথম নামাজ পড়া শুরু করেন। তারপর থেকেই এটা ঈদগাহ হয়ে যায়।
সুবর্ণভূমিকে একই রকম তথ্য দিয়েছেন বাদশাহ ফয়সাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন, “১৯৮১ সালে এখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই আমি এখানে কাজ করছি। তখন থেকেই শুনছি, এই ঈদগাহ ‘পাগলা মৌলভি’ নামে একজন প্রতিষ্ঠা করেছেন।”
বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ পরিচালনার একটি কমিটি রয়েছে, যার সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং সাধারণ সম্পাদক ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উপপরিচালক। এবং প্রতি বছর এই ময়দানে দুটি ঈদের নামাজের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে যশোর পৌরসভা। দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও কত সালে বা কীভাবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার কোনো নথি সংরক্ষিত নেই দপ্তরগুলোতে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম জানিয়েছেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে ঈদগাহকেন্দ্রিক বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে দুই দিন সময় দিলে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানানো সম্ভব। তবে দুই দিন পর যোগাযোগ করা হলেও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
তথ্য দিতে অপারগতা জানিয়েছে যশোর পৌরসভাও। প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুণ্ডু সুবর্ণভূমিকে জানান, পৌরসভার দায়িত্ব শুধুমাত্র ঈদের জামাতের প্যান্ডেল করা। এর বাইরে ঈদগাহের ব্যাপারে কোনো তথ্য এই দপ্তরে নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কতটুকু জমির ওপর ঈদগাহ নির্মিত সেটি বলতে পারবো না। তবে ঈদের জামাতের জন্য ৩৬০ ফুট লম্বা প্যান্ডেল করা হয়। এই হিসেবে ময়দানটি আনুমানিক দুই থেকে আড়াই একর বা প্রায় সাত বিঘার মতো জমির ওপর অবস্থিত।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যশোরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (১৯৭৬-৭৯) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীরের সময় কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সীমানা প্রাচীর ও অবকাঠামোগত সংস্কার শুরু হয়। বর্তমানে চারপাশে সীমানা প্রাচীরসহ চারটি স্থায়ী গেট দ্বারা ঘেরা রয়েছে ঈদগাহটি। ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে একটি স্থায়ী মিম্বর বা খতিবের বসার জায়গা রয়েছে, যা দৃষ্টিনন্দন নকশায় নির্মিত।
আজ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জনসভায় বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল হওয়ায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সাজসজ্জাসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে। তবে সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানই এখানো প্রথম সমাবেশ করছেন না। এই ময়দানটি দেশের একাধিক সরকারপ্রধান ও শীর্ষ নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের সাক্ষী।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এবং পরবর্তীতে ২০০১-০৬ সময়কালে বেশ কয়েকবার এই মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর এখানে জনসভা করেন এবং ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮০-এর দশকে এই ময়দানে একাধিকবার সরকারি ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
বর্তমান জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গত ২৭ জানুয়ারি ত্রয়োদশ নির্বাচনের আগে এই মাঠে নির্বাচনি জনসভা করেছিলেন।
রাজনীতিকদের মতে, যশোর শহরে স্টেডিয়াম বা মুনসী মেহেরউল্লা ময়দানের মতো বিস্তৃত খোলা জায়গা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ঈদগাহে বড় জনসমাবেশ হওয়ার পেছনে কিছু বাস্তব ও যৌক্তিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, কেন্দ্রীয় ঈদগাহের অবস্থান এমন একটি জায়গায় যার পাশ দিয়ে গেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এছাড়া ঈদগাহের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে গুরুত্বপূর্ণ চারটি সড়কের সড়কের সংযোগস্থল। এখানে সমাবেশ করলে পুরো শহরের জনস্রোতকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছানো সহজ হয়। পাশাপাশি চতুর্মুখী সড়ক থাকায় নেতা-কর্মীদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়।
দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ চারদিকে প্রাচীরবেষ্টিত হওয়ায় ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ।
জানতে চাইলে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু সুবর্ণভূমিকে বলেন, নির্বাচনের আগে যখন প্রধানমন্ত্রী যশোরে এসেছিলেন সে সময় উপশহরে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই স্থানটি শহরের বাইরে হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থায় বেগ পেতে হয়। আর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ শহরের প্রাণকেন্দ্র। এখানে যাতায়াত সহজ হওয়ায়ূ বিগত দিনেও রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানরা এখানে সমাবেশ করেছেন।
যশোরের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেই যে শুধু কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ব্যবহৃত হয়, তেমনটি নয়, বরং এটি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শেষ বিদায়ের এক বিষাদাতুর মঞ্চ হিসেবেও পরিচিত। অনেক জননেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির জানাজা এই ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের জানাজা এই ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটি এখন পর্যন্ত এই ময়দানের বৃহত্তম জানাজা বলে একবাক্যে স্বীকার করেন সবাই। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কারণে সকল দল-মতের মানুষের ঢল নেমেছিল এই ময়দানে।
যশোরের আরেক জননেতা পর্যায়ক্রমে জেলা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজু এমপির জানাজা এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ময়দানে আরও জানাজা হয়েছে যশোর জেলা মুসলিম লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ শামসুর রহমানসহ অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তির।