বিশেষ প্রতিনিধি
, যশোর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফরসূচির মধ্যে রয়েছে এই জনপদের প্রথম গণপাঠাগার যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন। দেশের কোনো সরকারপ্রধানের এই প্রথম দেশের গর্ব, যশোরের ঐতিহ্যের এই প্রতিষ্ঠানটিতে আনুষ্ঠানিক আগমন। তার আগমনকে ঘিরে যশোর ইনস্টিটিউটে গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে প্রস্তুতিমূলক কাজকর্ম। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তারা প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম তারেক রহমান যশোর আসছেন। তার কর্মসূচির মধ্যে প্রায় পৌনে দুইশ’ বছরের প্রাচীন এই ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন অন্যতম।
প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি সম্পাদক এস নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ‘সরকারপ্রধান হিসেবে অনেকেই যশোর টাউন হল ময়দানে জনসভায় এসেছেন। কিন্তু তাদের কেউ লাইব্রেরি পরিদর্শন করেননি। একমাত্র তারেক রহমানই যশোর ইনস্টিটিউট ও লাইব্রেরি পরিদর্শনে আসছেন। সেকারণে আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’
‘তাকে স্বাগত জানাতে গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। লাইব্রেরির প্রত্যেকটি কক্ষ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক কাজ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কার্যতৎপরতা নিয়মিত দেখভাল করছেন,’ সুবর্ণভূমিকে বলছিলেন লাইব্রেরি সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ।
জানতে চাইলে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে আমাদের ভেতরে একটা সাজ সাজ রব উঠেছে। তাকে বরণ করতে আমাদের প্রস্তুত শেষপর্যায়ে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘সুযোগ থাকলে মাননীয় প্রদানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমরা কিছু দাবি উত্থাপন করতে চাই। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, বর্তমান লাইব্রেরির তিনতলা থেকে পাঁচতলায় উন্নীত, সেখানে শিশুদের জন্যে একটি বিশেষ কক্ষের ব্যবস্থা, একটি বড় কফারেন্স রুম, ধুলোমুক্ত লাইব্রেরির জন্যে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, ঐতিহ্যবাহী ঘূর্ণায়মান মঞ্চটাকে অক্ষুণ্ন রেখে সেখানে একটি মাল্টি সিনেপ্লেক্স, পুকুরের ঘাট বাঁধানো, আলমগীর সিদ্দিকী হলটিকে সংস্কার করে দোতলা ভবন নির্মাণ- এগুলোই।’
ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি
উপমহাদেশের দ্বিতীয় ও বর্তমান বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক লাইব্রেরি হলো যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি। ভারতীয় উপমহাদেশে যখন কেউই ভাবেনি বইমেলার কথা, সেইসময় বইমেলার আয়োজন করা হয় এই লাইব্রেরির উদ্যোগে। যশোরের মানুষের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশে এই লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম। এরসঙ্গে জড়িত অনেকে এখন দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল নক্ষত্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত নানা সময়ে এই লাইব্রেরির উপরে নেমে আসে স্বৈরশাসকদের খড়্গহস্ত! ক্ষতিগ্রস্ত হয় লাইব্রেরির বহু মূল্যবান সম্পদ।
এখন অতীত ঐতিহ্যের সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারছে না লাইব্রেরিটি। বিস্তর বই, দুর্লভ মহামূল্যবান পাণ্ডুলিপি থাকলেও সেগুলোর বিষয়ে তেমন কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই শুধুমাত্র পঠন ও গবেষণার অভাবে।
সাধারণভাবে জানা যায়, ‘যশোহর পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাকাল ১৮৫৪ সাল’। এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃত যশোরের সেইসময়ের জেলা কালেক্টর আর সি রেক্স। কিন্তু লাইব্রেরি বিষয়ে পণ্ডিত-গবেষক ড. মোফাখখার হোসেনের দাবি, ‘যশোহর পাবলিক লাইব্রেরি’র প্রতিষ্ঠাকাল ১৮৫১। কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব ইন্ডিয়া এবং লন্ডনের ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে অনুসন্ধান চালিয়ে তার (ড. মোফাখখার হোসেন) দাবির সপক্ষে তথ্য মেলে।
ফরাসি বিপ্লবের পর (১৭৮৯) বিশ্বব্যাপী জ্ঞানচর্চার যে বাতাবরণ তৈরি হয়, তারই পথ ধরে ১৮০৩ সালে আমেরিকার কানেকটিকাট রাজ্যের সলিসবারিতে পৌরকর্তৃপক্ষ প্রথম পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৩৮ সালে মিশিগান রাজ্য গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৮৫০ সালে পাবলিক লাইব্রেরি অ্যাক্ট পাস করে। পরের বছর অর্থাৎ, ১৮৫১ সালে রাজনারায়ণ বসু (প্রধান শিক্ষক, মেদিনীপুর জিলা স্কুল) মেদিনীপুরে এই উপমহাদেশে প্রথম গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। ওই একই বছর ‘যশোহরে’ প্রতিষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় গণপাঠাগার। শ্রীবিষ্ণুশর্মা পণ্ডিত লিখিত নিবন্ধ অনুসারে ‘যশোহর পাবলিক লাইব্রেরি’র প্রতিষ্ঠা ১৮৫১ সালে। তার মানে, আজকের বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সর্বপ্রথম পাবলিক লাইব্রেরি এটি।
লাইব্রেরির স্থান
১৮৫১ সালে ‘যশোহর পাবলিক লাইব্রেরি’ প্রতিষ্ঠা হলেও কে বা কারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, কোথায় এটি করা হয়েছিল- তার কোনো দালিলিক প্রমাণ মেলে না। তবে, অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন (লাইব্রেরি সম্পাদক, ১৯৬৩-১৯৮৩) তার লেখায় ‘পটল ময়রা’ নামে এক ব্যক্তির উদ্ধৃতি ব্যবহার করে লিখেছিলেন, ‘যশোহরের কিছু বিত্তবান উৎসাহী মানুষ লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে যশোর ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যেখানে রয়েছে, তারই আশে-পাশে কোথাও একটি খড়ের ঘরে সেই লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়।’
পাবলিক লাইব্রেরির অবস্থান কোথায় ছিল, সে বিষয়ে নানা মত রয়েছে। জেমস ওয়েস্টল্যান্ড, ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারের বিবরণী, ‘জেলা গেজেটিয়ার’ আর ‘যশোহর পৌরসভার’ কমিশনারদের প্রথম ও দ্বিতীয় সভার প্রস্তাব অনুযায়ী ‘যশোহর পাবলিক লাইব্রেরির’ নিজস্ব ভবন ছিল বলে জানা যায়।
যশোর পৌরসভার পাশেই দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকা ভবনটি ‘যশোহর পাবলিক লাইব্রেরির’ আদি ভবন ছিল বলে কেউ কেউ অভিমত দেন। আবার অনেকেই বলেন, এখন যে স্থানে যশোর ক্লাব রয়েছে, সেখানেই ছিল পাবলিক লাইব্রেরির নিজস্ব ভবন। আবার টাউন হলের পাশের স্থানটিতে এক চালা ঘরে পাবলিক লাইব্রেরির যাত্রা হয় বলে কেউ কেউ বলেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, ১৮৬৪ সালে ‘যশোহর পৌরসভা’র কাজ শুরু হয় ‘যশোহর পাবলিক লাইব্রেরি’ ভবনে। সেক্ষেত্রে পৌরসভা ভবন বা যশোর ক্লাব ভবনের পাশে (মুনসী মেহেরউল্লা সড়কে) লাইব্রেরি গড়ে ওঠে বলে মনে করেন অনেকে। আর ১৯১০ সালে টাউন হল নির্মিত হলে সেই ভবনেই পাবলিক লাইব্রেরি (বর্তমান অবস্থান) স্থানান্তরিত হয়েছিল।
১৯২৮ সালে লোহাগড়ার জমিদার (নড়াইল) অবিনাশচন্দ্র সরকার ‘যশোহর পাবলিক লাইব্রেরি’র নতুন ভবন নির্মাণ করে দেন। তার বাবার নামের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে পরে এই ভবনের নাম রাখা হয় ‘বিশ্বনাথ লাইব্রেরি হল’। অবশ্য, ভবনটি এখন আর নেই।
১৯৬৪ সালে পাকিস্তান সরকার জরাজীর্ণ পুরনো ভবন ভেঙে নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে দেয়। ভবন উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ড. কাজী মোতাহার হোসেন; যা বর্তমানে পাঠকক্ষ ও গ্রন্থ ইস্যু বিভাগ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
‘যশোহর ইনস্টিটিউট’
প্রায় ১৭৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ‘যশোহর পাবলিক লাইব্রেরি’ বর্তমানে ‘যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
‘যশোহরের জেলা কালেক্টর’ আর সি রেক্স লাইব্রেরির জন্যে নলডাঙ্গার রাজা আর নড়াইলের জমিদারের আর্থিক সাহায্য নিয়েছিলেন।
১৯২৮ সালে রায়বাহাদুর যদুনাথ মজুমদার পাবলিক লাইব্রেরি, নিউ আর্য থিয়েটার ও টাউন ক্লাব নামে পৃথক তিনটি সংগঠনকে একীভূত করে ‘যশোহর ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই ‘যশোহর ইনস্টিটিউটের’ প্রথম সাধারণ সম্পাদক। নিজ অর্থায়নে তিনি লাইব্রেরি অঙ্গনে ‘টাউন হল’ নির্মাণ করেন (পরবর্তী নাম- আলমগীর সিদ্দিকী হল)।
১৯২৮ সালেই ‘যশোহর পাবলিক লাইব্রেরি’ পরিণত হয় ‘যশোহর ইনস্টিটিউটের’ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে।
(রায়বাহাদুর যদুনাথ মজুমদার, নড়াইলের জমিদার, ‘যশোহরের’ বিশিষ্ট আইনজীবী, ‘যশোহর’ পৌরসভার চেয়ারম্যান, ‘যশোহর জেলা বোর্ডের’ মনোনীত সভাপতি, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত উদার ব্যক্তি, ‘যশোহর ইনস্টিটিউট’ তারই ভূ-সম্পত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত)
নয়া নামকরণ
১৯৭৯ সালের ১৪ অক্টোবর বার্ষিক সাধারণ সভায় গৃহীত কিছু সংশোধনী থেকে জানা যায়, এমএ মান্নান প্রস্তাবিত ও এসএম আলী কাচা সমর্থিত ‘যশোর নাট্যকলা সংসদের’ পরিবর্তে যশোর ‘ইনস্টিটিউট নাট্যকলা সংসদ’ সংশোধিত প্রস্তাব গোলাম ইয়াজদান চৌধুরীর সমর্থনক্রমে বার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
হরেন্দ্রকুমার দাস কর্তৃক প্রস্তাবকৃত এবং গোলাম ইয়াজদান চৌধুরী সমর্থিত ‘যশোহর ইনস্টিটিউটের’ সংবিধানের ৪৯ পাতার দ্বিতীয় লাইনে নামটি পরির্বতন করে ‘যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি’ নামকরণের প্রস্তাব হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে বার্ষিক সাধারণ সভায় গৃহীত হয়।
এই লাইব্রেরির মূল সংগঠন যশোর ইনস্টিটিউটের সম্পদ থেকে অর্জিত অর্থ দিয়েই মূলত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়।
যশোর ইনস্টিটিউটের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, নাট্যকলা সংসদ, রওশন আলী মঞ্চ (উন্মুক্ত মঞ্চ), স্বাধীনতা মঞ্চ (স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তৃতা করেন অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ), শত বছরের পুরনো টাউন হল (আলমগীর সিদ্দিকী হল), লাইব্রেরি লাগোয়া টাউন হল মাঠ (মুনসী মেহেরউল্লা ময়দান), শহরের এমএম আলী রোডে ৩৩টি দোকানসহ ইনস্টিটিউট মার্কেট এবং শহরের আরএন রোডে প্রায় ৪৭ শতক জমিতে ১৭টি দোকানসহ ‘উন্মেষ মার্কেট’।
ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরিতে মোট বইয়ের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। এরমধ্যে প্রায় ৯৫ হাজার তালিকাভুক্ত। এছাড়া প্রায় এক হাজারের কিছু বেশি বই রয়েছে, যেগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়নি। বাংলা ভাষায় রয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার, ইংরেজি ভাষায় ২০ হাজার। উর্দু ভাষায় শতাধিক, আরবি ভাষায় একশ’য়ের কাছাকাছি, হিন্দি ও উর্দু ভাষায় লিখিত কিছু বই রয়েছে। এই লাইব্রেরিতে হাতে লেখা প্রায় দুইশ’ পাণ্ডুলিপি রয়েছে। যা তুলট কাগজ ও তালপাতায় লেখা। বেশিরভাগ সংস্কৃতভাষায় লেখা এই পাণ্ডুলিপির মধ্যে মহাভারত, রামায়ণ ছাড়াও মহাকবি কালিদাস, শ্রীরঘুরাম কবিরাজ, শ্রীকাশি-রাম দাশ, ত্রিলোচন দাস, শ্রীভর্তৃহরি, পদ্মনাম দত্ত, শ্রীরাম দত্ত, অমর সিংহ, শ্রী মচ্চানক্যের লেখা রয়েছে।
আছে হাতে লেখা কবি কালিদাসের পুঁথি। রয়েছে প্রাচীন রামায়ণও। নলখাগড়ার কলম আর ভূষা কালিতে লেখা দুর্গাপূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে। মোট বইয়ের ৬০ শতাংশ উপন্যাস, ৩০ শতাংশ রেফারেন্স বুক ও গবেষণাগ্রন্থ আছে ১০ শতাংশ। তবে, ৩২টি ক্যাটাগরিতে ৪৬ হাজার ৫৭০টি বইয়ের ডাটা এন্ট্রি করা হয়েছে। যদিও এই সফটওয়্যার আসলে কার্যকরী নয়।
দুটি বিশ্বযুদ্ধ, সাতচল্লিশের দেশভাগ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ‘যশোহর পাবলিক লাইব্রেরি’ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকবার জায়গা বদল করতে হয়েছে।
সাবেক লাইব্রেরি সম্পাদক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আমিরুল আলম খানের মতে, ইতিহাসের বড় বড় ঘটনায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাইব্রেরিটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি করে এখানে। বাস্তুচ্যুৎ হয় লাইব্রেরি। সেইসময় লাইব্রেরির ভবন, অনেক সম্পদ, দলিলপত্র বিনষ্ট হয়; হারিয়ে যায় অনেক মূল্যবান উপাদান। ভাষা আন্দোলনের ব্যাপকতার মুখে প্রথমবার পুলিশ এই লাইব্রেরিতে হানা দেয়; তালা ঝুলিয়ে দেয়। তারা পুড়িয়ে দেয় অনেক মূল্যবান বই, অনেক বই বাজেয়াপ্তও করে। পুলিশি হামলার মুখে তৎকালীন ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ও লাইব্রেরি সম্পাদকসহ অনেকেই দেশত্যাগে বাধ্য হন। জেলা প্রশাসক বাতিল করে দেন ইনস্টিটিউটের নির্বাচিত কমিটিকে। সেইসময় ভাষা আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তাদের সকলেই কোনো না কোনোভাবে লাইব্রেরির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।