যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ৬ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কোরবানির জন্য মেহেরপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে পৌনে দুই লাখ পশু

জুলফিকার আলী কানন

, মেহেরপুর

প্রকাশ : বুধবার, ৬ মে,২০২৬, ১১:০০ এ এম
কোরবানির জন্য মেহেরপুরে প্রস্তুত করা হয়েছে পৌনে দুই লাখ পশু

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভালো লাভের স্বপ্ন নিয়ে মেহেরপুর জেলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পশু পাঠানোর লক্ষ্যে দিনরাত গবাদিপশুর যত্ন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন তারা ।

গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় পশুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন খামারিরা। তবে, ভারতীয় পশু যাতে দেশে না প্রবেশ করে সে দাবি প্রশাসনের কাছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছোট বড় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর মেহেরপুর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু। এরমধ্যে ষাঁড় ৪০ হাজার ৩৪৯টি, বলদ চার হাজার ৮৪৪টি এবং গাভি আট হাজার ৫০৯। এছাড়া মহিষ ৪৮২টি, ছাগল এক লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া দুই হাজার ৭২০টি।

জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশু। সেই হিসেবে প্রায় ৮২ হাজার ৩৩৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকছে, যা ঢাকা, চিটাগাং, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করার প্রস্ততি নিচ্ছেন খামারিরা।

ইতিমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা খামারগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেছেন। খামারিরা জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশে খৈল, ভূষি ও সবুজ ঘাস খাইয়ে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। যদিও গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, তবুও ভালো দামের আশায় তারা আশাবাদী।

খামারগুলোতে দেড় লাখ থেকে শুরু করে ১০-১২ লাখ টাকা মূল্যের গরুও রয়েছে। বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারগুলোও পারিবারিকভাবে গরু লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পার করছে।

জেলার খামারগুলোতে নেপালী, অস্ট্রেলিয়ান, ফ্রিজিয়ান, পাকিস্তানি ও হরিয়ানা জাতের উন্নত গরু দেখা যাচ্ছে। খামারিদের দাবি, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখা হলে দেশের উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব।

গাংনী উপজেলার পশ্চিম মালশাদহ গ্রামের খামার মানজারুল ইসলাম বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলায় যোগান দেওয়া সম্ভব।

তাই ভারত থেকে চোরাই পথে যেনো গরু না আসতে পারে সেজন্য প্রশাসনকে কাজ করতে হবে।

বানিয়ারপুকুর গ্রামের গ্রিন রেইনবো এগ্রো ফার্মের কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা খামারগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেছেন।

তাদের ফার্মে ৪৫টি ছোট-বড় গরু আছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি গরুর দাম দুই লাখ থেকে শুরু করে ১০-১২ লাখ টাকা।

মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মেহেরপুর প্রাণিসম্পদে ভরপুর একটি জেলা। এ জেলায় প্রায় সাত লাভ গরু ছাগলসহ বিভিন্ন পশু রয়েছে।

এখানে ছোট-বড় এক হাজার খামারির পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গরু ছাগল পালন করা হয়। জেলায় এবছর প্রায় পৌনে দুই লাখ পশু কোরবানির উপযোগী করে প্রস্তুত করেছেন খামারিরা।

এর মধ্যে জেলার চাহিদা রয়েছে প্রায় নব্বই হাজার পশু। বাকী ৮০ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবে। মেহেরপুর একটি সীমান্তবর্তী জেলা। তাই চোরাকারবারিরা যেন গরু আনতে না পারে সেজন্য প্রশাসনসহ প্রাণিসম্পদ বিভাগ সজাগ রয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)