যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ১০ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

পরকীয়ার জেরে হত্যা

গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে মিললো যুবকের লাশ

স্টাফ রিপোর্টার ও বাগআঁচড়া (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : শনিবার, ৯ মে,২০২৬, ১১:৩১ পিএম
গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে মিললো যুবকের লাশ

নিখোঁজ যুবক ইকরামুল কবিরের (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এক মাস পাঁচদিন আগে তিনি নিখোঁজ হন। তাকে হত্যার পর লাশ গোয়ালঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

নিহত ইকরাামুল কবির যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শার্শার বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফুরাদের স্ত্রী মুন্নীর (২২) সাথে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। একমাস পাঁচদিন আগে তিনি তার প্রেমিকার কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্ত মুন্নীর স্বামী আল ফুরাদকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বসতপুর গ্রামে তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে গোয়ালঘরের মেঝে খনন করে নিখোঁজ ইকরামুলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত দম্পতি আল মুরাদ ও মুন্নী বেগমকে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- পরকীয়া ও পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, লাশ উদ্ধারের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শত শত উৎসুক জনতা অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে ভিড় জমায়। দীর্ঘ এক মাস পর মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

মামলার বাদী ও নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, তার একমাত্র ছেলে ইকরামুলকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করা হয়। এরপর পরিবারের কাছে বিভিন্ন সময় দশ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ এপ্রিল রাতে শার্শার সেতাই এলাকায় বড় বোনের বাড়ি থেকে ইকরামুলকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইলফোন বন্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যরা শার্শা থানা, বেনাপোল পোর্ট থানা ও ডিবি পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও প্রথমদিকে কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে ইকরামুলের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)