যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী ও সৎ বাবা পুলিশ হেফাজতে

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন,২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী ও সৎ বাবা পুলিশ হেফাজতে

যশোরের মণিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মণিরামপুর পৌরশহরের মোহনপুর ওয়াবদা মোড় এলাকায় বাবার বাড়ির নির্মাণাধীন একটি ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের মুখ ও কানে রক্তের দাগ থাকায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত তাসলিমা খাতুন ময়না ওয়াবদা মোড়ের মৃত ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে। প্রায় সাত-আট বছর আগে উপজেলার মনোহরপুর কুমারঘাটা এলাকার হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এই দম্পতির চার বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে। নিহত ময়না বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পারিবারিক কলহের জেরে গত তিন-চার দিন আগে তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের সৎ বাবা রফিকুল ইসলাম ও স্বামী হেলাল উদ্দিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নিহতের বোন মারুফা জানান, ময়নার স্বামী হেলাল আগেও দুটি বিয়ে করেছিলেন। ময়না ছিলেন তার তৃতীয় স্ত্রী। বিয়ের পর থেকেই হেলাল প্রায়ই ময়নাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে হেলাল ময়নাকে তাঁর মায়ের বাড়িতে রেখে যান এবং শুক্রবার তাকে পুনরায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।

মারুফা আরও বলেন, “রাতে মা নিজ কক্ষে ঘুমানোর সময় ময়না বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিল। ভোরে নামাজ পড়তে উঠে মা দেখেন, তার কক্ষের দরজা বাইরে থেকে সিটকানি দিয়ে আটকানো। ময়নাকে অনেকবার ডেকে সাড়া না পেয়ে মা আমার ভাই সাইফুল্লাহকে ডাকেন। পরে ভাই এসে দরজা খুললে দেখা যায়, ময়না বিছানায় নেই। কিছুক্ষণ পর মা ময়লা ফেলতে গিয়ে নির্মাণাধীন একটি ঘরে ময়নার উপুড় করা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।”

নিহতের বোন অভিযোগ করে বলেন, “খবর পেয়ে হেলালকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অন্য মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে তিনি এলাকায় আসেন। আমরা জানতে পেরেছি, হেলাল গোপনে ফের বিয়ে করেছেন। সম্ভবত নতুন স্ত্রীকে ঘরে তোলার পথ পরিষ্কার করতে ময়নাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আমাদের সন্দেহ, রাতে ময়নাকে মোবাইলে ডেকে ঘর থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে। মা যেন টের না পান, সেজন্য তার কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকানো হয়েছিল। হেলাল নিজে অথবা ভাড়াটে লোক দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, ময়নার বাবার মৃত্যুর পর তার মা তাহেরা বেগম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ঘটনার রাতে সৎ বাবা রফিকুল ইসলাম বাড়িতেই ছিলেন। মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান বলেন, “তাসলিমার মৃত্যু নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।”

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের সৎ বাবা ও স্বামীকে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)