স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিশ্বকাপের মঞ্চে জন্ম নিল কানাডিয়ান ফুটবলের এক নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে উত্তর আমেরিকার দলটি। রাউন্ড অব ৩২-এর শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্বপ্নের সেই অধ্যায় লিখেছে কানাডা।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের শেষ প্রান্তে, তখনই আসে সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ৯২ মিনিটে স্টিফেন ইউস্তাকিওর দুর্দান্ত ভলি দক্ষিণ আফ্রিকার জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে কানাডার খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও হাজারো সমর্থক। সেই এক গোলই বদলে দেয় কানাডার বিশ্বকাপ ইতিহাস।
ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি প্রধান কোচ জেসি মার্শ। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরাই কানাডার সত্যিকারের নায়ক। তোমাদের এই অর্জন দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।’
তিনি আরও জানান, ম্যাচ শেষে মাঠেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে কেউ সমালোচনা করলেও তিনি তা নিয়ে ভাবেন না। কারণ, এমন ঐতিহাসিক সাফল্যের পর ফুটবলারদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়াটাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে কানাডাকে নিজেদের নির্ধারিত ভেন্যু ভ্যাঙ্কুভারের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে নকআউট ম্যাচ খেলতে হয়। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার কোনো দলকে নকআউট পর্ব খেলতে অন্য দেশে যেতে হলেও মাঠভর্তি কানাডিয়ান সমর্থকদের উপস্থিতি এক মুহূর্তের জন্যও সেই অনুভূতি হতে দেয়নি।
মার্শ বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে অভ্যস্ত। ভ্যাঙ্কুভারে খেলতে না পারায় হতাশ ছিলাম, কিন্তু ছেলেরা দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কাক্সিক্ষত ফল এনে দিয়েছে।’
শেষ ষোলোতে কানাডার সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কো। তবে কোচের বিশ্বাস, এবার কোনো চাপ নয়, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করাই হবে তাদের লক্ষ্য।
এদিকে জয়ের নায়ক স্টিফেন ইউস্তাকিও বলেন, ‘আমরা কখনো বিশ্বাস হারাইনি। ভাইয়ের মতো একে অপরের জন্য লড়েছি। এই জয় আমাদের প্রাপ্য। তবে আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি।’
একসময় বিশ্বকাপের স্বপ্নই ছিল কানাডার কাছে বড় অর্জন। আর আজ সেই দলই ইতিহাস গড়ে পৌঁছে গেছে শেষ ষোলোয়। এখন দেখার বিষয়, এই যাত্রা আর কতদূর এগিয়ে নিতে পারেন জেসি মার্শের শিষ্যরা।