স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের চৌগাছা উপজেলার একটি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি প্রকল্পে প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন গম আত্মসাৎ ও সরকারি অর্থের অপব্যবহারের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক (অব.) ওয়াজেদ আলী গাজী ভার্চুয়াল সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) তিনি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এ সাক্ষ্য দেন। যশোরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস.এম নূরুল ইসলাম তার দেওয়া সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, চৌগাছা উপজেলার খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০০১-০২ অর্থবছরে পুকুর পুণর্খনন প্রকল্পের জন্য মোট ১৮ হাজার মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সদস্যসহ মোট পাঁচজন যোগসাজসে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত গমের হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়েছিলেন। এ ঘটনা জানাজানির পর প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ২০০৪ সালের ৩১ মে দুদকের পরিদর্শক এসএম শামীম ইকবাল বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় আসামি করা হয় চৌগাছার মাশিলা গ্রামের রবিউল ইসলাম, তিলেকপুর গ্রামের লাল মিয়া, মশিলা গ্রামের নিলুফার ইয়াসমিন, গদাধরপুর গ্রামের আবুল কালাম ও তেঘরী গ্রামের আলতাফ হোসেনকে।
তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী ২০১১ সালের ২৬ জুন ওই পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে এ মামলার ছয়জন সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণ করেন বিচারক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (অব.) ওয়াজেদ আলী গাজী বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় তার মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। আদালতের সমন পেয়ে তিনি দুদকের পিপির সাথে যোগাযোগ করে ভার্চুয়াল সাক্ষ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।
সোমবার দুদকের পিপি ও আসামিপক্ষের আইনজীবী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিচারকের কাছে সাক্ষীর বক্তব্য তুলে ধরেন। বিচারক তা গ্রহণ করে পরবর্তী সাক্ষী গ্রহণের দিন ধার্যের আদেশ দিয়েছেন।