স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বিএনপির দুই নম্বর ওয়ার্ড শাখার সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আওয়ামী লীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের ওই কর্মীরা তাদের সরকারের আমলে বিএনপির ওই নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সরকার পতনের পর দীর্ঘদিন তারা আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে এসে ফের তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন বিএনপির ওই নেতা।
এসব অভিযোগে রোববার (২৮ জুন) রাতে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপি ফতেপুর ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।
অভিযোগ আমলে নিয়ে কোতোয়ালি থানা চাঁনপাড়া পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।
এদিকে বিএনপি নেতার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন অভিয্ক্তু আওয়ামী লীগের কর্মী চাঁদপাড়া গ্রামের জসিম ও রবিউল।
ভুক্তভোগী রুহুল আমিন তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জসিম ও রবিউল তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। ৫ আগস্টের পরে কিছুদিন তারা পালিয়ে ছিলেন। এখন আবার এলাকায় ফিরে এসে তাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এলাকায় নানাধরনের অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাদী ও আরও কয়েকজন চাঁনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসে ছিলেন। এসময় জসিম ও রবিউল সেখানে এসে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান। এরপর থেকে বিএনপি নেতা রুহুল আমিনসহ তার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের আগে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় জসিম ও রবিউল তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেছিলেন, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তাদের কাছে অস্ত্র রয়েছে দাবি করে তা উদ্ধারেরও দাবি জানান বিএনপি নেতা রুহুল আমিন।
অভিযুক্ত জসিম ও রবিউল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিএনপি নেতা রুহুল আমিনকে তারা হত্যার হুমকি দেননি। তাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
তবে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রুহুল আমিনকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে তারা বলেন, রুহুল আমিনকে লক্ষ্য করে গুলি করেছিলেন এনামুল। এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিলোনা।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ‘অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের তদন্ত করছে পুলিশ। চাঁনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সিরাজুল ইসলামকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’