অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’
মেহেরপুর সংবাদদাতা
সদ্য কার্যকর হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ -এর আওতায় বাংলাদেশে প্রথম মামলাটি দায়ের হয়েছে মেহেরপুরের মুজিবরগর থানায়। শুক্রবার (০৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর ২০(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় ১৯ জনকে অবিযুক্ত করে মামলাটি রুজু করা হয়।
এই মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও কয়েকজনকে।
মামলার আসামিরা হলেন, মুজিবনগরের কোমরপুর গ্রামের মুকুল, শুভ (২২), প্রসেনজিৎ হালদার (২৫), আক্তারুজ্জামান ফিলসন, শামীম (৩০), মহাজনপুর গ্রামের মিঠু (৪০) ও সোহাগ (৩৮), গোপালপুর গ্রামের বদরুদ্দোজা রয়েল (৩৭), রসিকপুর গ্রামের সিরাজ (৩৬), মোনাখালী গ্রামের মাহফুজুর রহমান (২১), গাংনী উপজেলার গাড়াডো গ্রামের তুলিপ হোসেন (৩০), সদর উপজেলার বামনপাড়ার রঞ্জু ও রাজু, কোর্টপাড়ার সাজু, শেখপাড়ার পনির (২৪) এবং স্টেডিয়ামপাড়ার বাপ্পি (৩০)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা অনলাইন জুয়া চক্রের সদস্য। তারা আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে টাকা পাচার করতেন। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করতো চক্রটি।
তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রলোভনের ফাঁদ পেতেছিল। দ্রুত আয়ের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা ছিল তাদের কৌশল।
মুজিবনগর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (০৩ নভেম্বর) বিকেলে কোমরপুর থেকে অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরা হলেন শীর্ষ অনলাইন জুয়াড়ি দেলোয়ার হোসেন দিপু (৪০), সুমন আলী (৩৮) ও সাকিবুল ইসলাম (২৩)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি টয়োটা প্রিমিও প্রাইভেটকার, চারটি স্মার্টফোন, মোবাইল ব্যাংকিং সিম, লেনদেন-সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ।
পরে দিপুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৩ আল্ট্রা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের তিনটি কার্ড ও দুটি পেনড্রাইভ।
ডিবি জানায়, চক্রটি মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও আশপাশের এলাকায় অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-লেনদেনের নেটওয়ার্ক চালাতো। মামলায় এই তিনজনকেও আসামি করা হয়েছে।
মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে কয়েকশ' যুবক নিঃস্ব হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া কয়েক হাজার কোট টাকা পাচার হয়েছে বিদেশে। এসব নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় মিডিয়ায় বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
অভিযোগ ওঠে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও তার স্ত্রী কেন্দ্রীয় যুব মহিলালীগের সদস্য মোনালিসাসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জড়িত ছিলেন। এছাড়া, পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকের নামও আসে।