স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
অর্থের অভাবে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ থাকবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও যশোরের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থের অভাবে কেউ ভর্তি হতে না পারলে কিংবা পরীক্ষার ফি দিতে না পারলে তার দায়িত্ব নেওয়া হবে। যশোর সদরসহ জেলার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে প্রধানশিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, 'এটা বাস্তবতা যে, যশোর আজ যা করে বা যশোর যেভাবে অতিক্রম করে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগামীকাল বা আগামী পরশুদিন সেটাই করে। সেহেতু আমরা এই কাজটি এই ক্ষেত্রে করতে চাই।
তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, 'আপনারা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন। আমার মা যেহেতু শিক্ষকতা করতেন, আপনাদের প্রতি আমার একটি আলাদা দুর্বলতা কাজ করে বরাবরই। আপনাদের প্রতি আমার অশেষ শ্রদ্ধা রয়েছে, শ্রদ্ধা থাকবে। শ্রদ্ধার জায়গাটা আপনারা আপনাদের কাজের মাধ্যমে ধরে রাখবেন—এটাই আপনাদের প্রতি আমার প্রত্যাশা।'
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন অথবা তাকে বিষয়টি জানাতে হবে। যশোর সদর ও জেলা পর্যায়ে এ দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
অর্থের অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ না হওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'অর্থের অভাবে কারও পড়া আটকে থাকবে না—এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে যশোরে ইনশাআল্লাহ আমি এবং আমরা নেব।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে টাকার অভাবে কেউ ভর্তি হতে পারছে না, পরীক্ষার ফি দিতে পারছে না—এটা আমরা হতে দিতে চাই না। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব আমরা নিতে পারব না।
বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকা বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াস হলে এর ফলাফল অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে।
তিনি বলেন, 'যেখানে বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে, সেই তথ্য আমাদের কাছে থাকলে সংশ্লিষ্ট বাবা-মাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। যে কাজী বিয়ে দিয়েছেন, তার নিবন্ধন বাতিল করা হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মেম্বারকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এগুলো কোনো ছেলেখেলা নয়—বাল্যবিবাহ কীভাবে হবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার হকসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।