ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আমরা এমন বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা থাকবে। বিশেষ করে নারীর সামাজিক নিরাপত্তা। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফেরাতে গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে ফ্যাসিস্টরা আমাদের সাড়ে চার হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে। আমাদের অপরাধ ছিল আমরা গণতন্ত্র চেয়েছিলাম, আমার ভোট আমি দিতে চেয়েছিলাম। একটি দাবির জন্যই এতো মানুষকে স্বজনহারা হতে হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার যাই হোন না কেন রাজনীতির পাঠশালা হলো আপনার জীবন বদলে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় পাঠশালা।’
এসময় মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কিনা এ বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করবো। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।’
সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সরকার সন্তুষ্ট কি না সেটি বিষয় না, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এসময় তিনি জানান, ই-জুডিশিয়ারি (বিচার বিভাগ ডিজিটালাইজেশন) নিয়ে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, ‘ভারত সব সময় দল হিসাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ছিল ভারতের জনগণের সাথে সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু ভারতের থেকে এর বিপরীত আচরণ আমরা দেখেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফরে যাবেন কিন্তু তার আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তার স্পষ্ট অবস্থান আমরা জানতে চাই।’
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।