যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী নারীদের মাঝে নগদ অর্থসহ উপকরণ প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : শনিবার, ২৯ আগস্ট,২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
আপডেট : শনিবার, ২৯ আগস্ট,২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী নারীদের মাঝে নগদ অর্থসহ উপকরণ প্রদান

যশোর সদরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দরিদ্র ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন, শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তির নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার যশোর সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি। সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।

অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষায় সহায়তা এবং নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চার নারীকে সেলাই মেশিন, ছয় শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল, ৩৮ জনকে শিক্ষাবৃত্তি এবং ১৩৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাঁচটি ক্লাবকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করা হয়।

এর মধ্যে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১৯ জন শিক্ষার্থীকে তিন হাজার টাকা করে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১১ জনকে পাঁচ হাজার টাকা করে এবং একাদশ থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত আটজনকে সাত হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। এছাড়া ১৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পাঁচটি ক্লাবকে ব্যাডমিন্টন, টেপ টেনিস, দাবা, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, ফুটবল, ভলিবল খেলার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা যাতে অর্থের অভাবে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে এবং নারীরা যাতে নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

তিনি বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর যে ধারাটি দেশে বিভিন্ন সময়ে গড়ে উঠেছে, তার সঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন ও মানুষের স্বনির্ভরতার বিষয়টি যুক্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিতে গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা, শিক্ষা এবং নারী-যুবকদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও শিক্ষা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তার সরকারের সময়ে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি, ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি এবং মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষায় বিভিন্ন সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশা ও জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কয়েকজন শিক্ষার্থী ও নারী উপকারভোগীর হাতে সরাসরি সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। সেলাই মেশিন পাওয়া নারীরা এর মাধ্যমে আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আর বাইসাইকেল পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজ হবে বলে জানান আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবদুর রাজ্জা, ক্রীড়া সংগঠক শামীম এজাজসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত কৃষি প্রণোদনা ও কার্যক্রমের আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ উপকরণ বিতরণ করেন। পরে তিনি ঢাবি ফোরাম যশোরের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে চাল বিতরণ করেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)