বিশেষ প্রতিনিধি
, যশোর
ভারতে বসে দলীয় নেতাকে হুমকি দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। সম্প্রতি তিনি দলের কেশবপুর উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রায়কে মোবাইলফোনে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী গৌতম রায় হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর ছিল সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য এএসএইচকে সাদেকের মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সেদিন রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন। উপস্থিত ছিলেন এই আসনের সাবেক এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহীন চাকলাদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলামসহ দলের কেশবপুর কমিটির ১৫-১৬ নেতা।
গৌতম রায় জানান, আলোচনা পর্ব শেষ হওয়ার পর শাহীন চাকলাদার, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ অনলাইন থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনিসহ কয়েকজন অন্য একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। রাত ১২টার পরে সেই মিটিংয়ে আবারো জয়েন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি।
গৌতম রায়ের দাবি, ‘৫ আগস্টের পর আমরা বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংযোগ চালিয়ে আসছি। কিন্তু গত দুই বছরে শাহীন চাকলাদার কখনোই সাধারণ নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর নেননি।’
ওই সময় আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলি, ‘আত্মগোপনে থেকে অনেক কষ্ট হচ্ছে এবং এভাবে আসলে পারা যায় না।’
“আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে জেলা সেক্রেটারি বলেন, ‘তোমার দল করার দরকার নাই। তোমাকে দল করতে কে বলেছে?”
তিনি বলেন, “আমি এই কথার প্রতিবাদ করলে তিনি (শাহীন চাকলাদার) বলেন, আমি এখনো বেঁচে আছি। তুই কীভাবে নেতা হোস আমি দেখে নেবো।’ একইসাথে তিনি আলোচনার সভাপতিকে অনুষ্ঠান থেকে আমাকে বের করে দেওয়ার জন্য শাসান।”
এদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রায়কে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলীয় বেশ কয়েকজন নেতা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গৌতম রায়কে হুমকির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সর্মথকরা তাদের টাইমলাইনে মন্তব্য করেছেন। একজন লেখেন, ‘মিটিংয়ে সাদেক সাহেবকে নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য সেখানে শোকের পরিবর্তে সেই পুরনো চেহারায় আবির্ভূত হন যশোর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদার! অনলাইন প্লাটফর্মে শাহীন চাকলাদার কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।’
‘হুমকিতে তিনি বলেন, তুই কী করে আওয়ামী লীগ করিস আমি দেখপো (তার ভাষায়)। তোর আওয়ামী লীগ করা লাগবে না। বাড়ি যা। নির্যাতিত আওয়ামী লীগ করো? তোমারে তো দেখপো সাথে নির্যাতিত আওয়ামী লীগদেরও দেখপো। আমার বাইরে আওয়ামী লীগ করার স্বাদ মিটায় দেবো। আর তোর বাপ শেখ সেলিমরে ঠেকাতি কোস।’
হুমকির বিষয়ে গৌতম রায় আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিভিন্ন অত্যাচারে এমনি আমরা জর্জরিত। এরপরও যদি নিজ দলের জেলা শীর্ষ নেতারা হুমকি দেন, তাহলে আমরা যাব কোথায়?’
বর্তমানে বিষয়টি এখন কেশবপুর উপজেলা ছাড়িয়ে জেলা পর্যায়েও আলোচিত হচ্ছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, শাহীন চাকলাদার বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে না পারলেও নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি ব্যাপক মারমুখি আচরণ করেন।
এই হুমকির রাজনীতি আর কাজে আসবে না। উনি যে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছেন সেটা তার আচরণ প্রমাণ করে দিচ্ছে। তিনি শুধু কেশবপুর উপজেলা নয় সমগ্র জেলার নেতাকর্মীদের একইভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে নিজের পক্ষে কাজ করতে বলছেন।