মব সৃষ্টি করে খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দেওয়া ও বোর্ডের সভাপতি বিএমএ ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা ডাক্তার রফিকুল হক বাবলুকে অপসারণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) খুলনা শাখা।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নগরীর সাত রাস্তার মোড়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ডাক্তার মোস্তফা কামাল।
এতে চিকিৎসক নেতারা বলেন, খুলনার স্বাস্থ্যখাত নতুন এক অচলাবস্থার মুখে পড়তে যাচ্ছে।
প্রবীণ চিকিৎসক নেতা ডাক্তার রফিকুল হক বাবলুর অপসারণকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে- যার জেরে কর্মবিরতির হুশিয়ারি এসেছে যা বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবায়।
খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ মব সৃষ্টি করে ডাক্তার বাবলুকে 'ষড়যন্ত্রমূলক ও বেআইনি প্রক্রিয়ায়' অপসারণ করা হয়েছে অভিযোগ তুলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), খুলনা শাখা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, একটি 'কুচক্রী মহল' পরিকল্পিতভাবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে, যা চিকিৎসক সমাজের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে আল্টিমেটাম দিয়ে তারা বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডাক্তার বাবলুকে সসম্মানে পুনর্বহাল এবং ঘটনার দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তা না হলে আগামী বুধবার থেকে খুলনার সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হবে।
ড্যাব নেতারা বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইনডোর সেবা বন্ধসহ আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে- যা কার্যত খুলনার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরে থাকা কয়েকজন 'চিহ্নিত ব্যক্তি' এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিও জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তৃতা করেন ড্যাবের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আকরামুজ্জামান, খুলনা শিশু হাসপাতালের পরিচালক প্রদীপ দেবনাথ এবং ড্যাব নেতা ডাক্তার গোলাম আজম।
উল্লেখ্য, গত সোমবার নগরীর শিরোমনিতে অবস্থিত খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।