যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন

সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : শনিবার, ২৯ নভেম্বর,২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন
Subornovumi

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাঁর সুস্থতা কামনায় শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক দোয়ার আয়োজনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সারা দেশের বিভিন্ন মসজিদে দোয়ার আয়োজন করে বিএনপি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এজন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার রাত ১১টার পর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাধারণ মানুষের ভিড় জমতে থাকে। উদ্বিগ্ন অনেক মানুষ সেখানে জমায়েত হন।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান ও মির্জা আব্বাস হাসপাতালে গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত থেকে দলীয় প্রধানের স্বাস্থ্যের খবর নিয়েছেন। রাত ১২টার পর হাসপাতালে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ড বসেছিল, বোর্ড তাঁর (খালেদা জিয়া) সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেছে এবং যা যা করা দরকার, তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।'

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা সালাম দিয়েছি, উনি রিপ্লাই দিয়েছেন। উনি আমাদের চিনতে পেরেছেন।’ তিনি জানান, এর আগেও বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এমন হয়েছিল, তিনি বিশ্বাস করেন এবারও বেগম জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন।

খালেদা জিয়াকে দেখতে শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে হাসপাতালের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের আমীর খসরু বলেন, ‘আমরা দূর থেকে দেখেছি। ইনফেকশনের ঝুঁকি আছে, তাই সিসিইউতে যাওয়া যায় না। আমরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ম্যাডামের অবস্থার উন্নতি নেই। মেডিক্যাল বোর্ড চেষ্টা করছে।’

বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে শুক্রবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তাঁর বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। এ সময় সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন। বিএনপির আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা ড. আব্দুল মঈন খানও একই সময় হাসপাতালে আসেন। রাত ১২টা ৬ মিনিটে আসিফ নজরুল হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামানও রাতে হাসপাতালে গিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের খবর নেন। আরো গিয়েছিলেন বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী। রাতে জুলাই শহীদ মীর মুগ্ধর ভাই মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ওই হাসপাতালে যান।

দুপুরে নয়াপল্টনের জামে মসজিদে বিএনপি প্রধানের সুস্থতা কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়া দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। গত রাতে ডাক্তাররা বলেছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। গণতান্ত্রিক উত্তরণে সবচেয়ে বড় অবদান খালেদা জিয়ার। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, কারাবরণ করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। সর্বশেষ তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থ করে দেন। সুস্থ অবস্থায় আবার জনগণের মধ্যে ফিরে এসে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ করে দেন।’

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির সংবাদে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর সার্বিক শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে আমরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন।’

গত ২৩ নভেম্বর রবিবার রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে  স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। তিনি বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া তাঁর ছেলে তারেক রহমানের বাসায় লন্ডনের ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা:

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে ড. ইউনূস যে বিবৃতি দিয়েছেন, সে জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত রাতে বিএনপির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেশনেত্রীকে নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিবৃতিতে যে সৌজন্য ও মানবিক অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে, সে জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)