রূপক মুখার্জি
, লোহাগড়া (নড়াইল)
একসময় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন মিষ্টির দোকানগুলোতে থাকতো উপচেপড়া ভিড়। শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপন করতে অভিভাবক ও স্বজনেরা কিনতেন নানা ধরনের মিষ্টি। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চেনা চিত্র। এবার ফল প্রকাশের দিনেও নড়াইলের লোহাগড়ায় মিষ্টির দোকানগুলোতে দেখা যায়নি বাড়তি ক্রেতার ভিড়। বেচাকেনা হয়েছে অনেকটা স্বাভাবিক দিনের মতোই।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে লোহাগড়া শহর ও উপজেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র লোহাগড়া বাজারের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাতেও মিষ্টি বিক্রিতে তেমন সাড়া মেলেনি।
প্রতি বছর ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে সন্দেশ, চমচম, কালোজাম, ছানামুখী, বরফি ও রসমালাইসহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি কেনার ধুম পড়ে। শিক্ষার্থীদের সাফল্যে আনন্দ ভাগাভাগি করতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে মিষ্টি পাঠানোর প্রচলনও ছিল। কিন্তু এবার সেই চেনা ব্যস্ততা চোখে পড়েনি।
লক্ষ্মীপাশা খেয়াঘাট এলাকার প্রসিদ্ধ মিষ্টি ব্যবসায়ী সঞ্জয় সাহা বলেন, ফল প্রকাশ ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদযাপনের পুরোনো আগ্রহে ভাটা পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মিষ্টি বিক্রিতেও।
লোহাগড়া ও লক্ষ্মীপাশা এলাকার মিষ্টির দোকানগুলোর শোকেসে থরে থরে মিষ্টি সাজানো থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম।
দোকানের কর্মচারীদেরও অনেকটা অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে ফল প্রকাশের দিনে বাড়তি ক্রেতার চাপ সামলাতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করতে হতো। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে এ উপলক্ষে মিষ্টি বিক্রি অনেক কমেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অভিভাবকদের মতে, পাশের হার কম হওয়া মিষ্টি বিক্রি কমার প্রধান কারণ। এছাড়া স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ায় অনেকেই এখন মিষ্টির পরিবর্তে ফলমূল বা অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী উপহার দিচ্ছেন। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসার এবং ফলাফল উদযাপনের ধরনে পরিবর্তন আসায় আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে মিষ্টি পাঠানোর প্রচলনও দিন দিন কমছে। ফলে একসময় ফল প্রকাশের দিনকে ঘিরে মিষ্টির দোকানগুলোতে যে বাড়তি বেচাকেনা হতো, তা এখন অনেকটাই অতীত হয়ে যাচ্ছে।