সুবর্ণভূমি ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাহত হওয়া জ্বালানি উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)।
সংস্থাটির প্রধান ফেতিহ বাইরল সুইজারল্যান্ডের একটি পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পুনরুদ্ধারের সময় অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং কিছু দেশের ক্ষেত্রে তা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। খবর আল-জাজিরা।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ইরাকে পুনরুদ্ধারে সৌদি আরবের তুলনায় বেশি সময় লাগবে।’
আইইএর হিসাব অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি উৎপাদন যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
এদিকে ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বলে জানিয়েছে গবেষণা ও জ্বালানি বিষয়ক কোম্পানি রিস্টাড এনার্জি। সংঘাতে তেল-গ্যাস স্থাপনাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দেশভেদে যা পুনরুদ্ধারে বেশ সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধে জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালানো হয়। গবেষণা ও জ্বালানি বিষয়ক কোম্পানি রিস্টাড এনার্জির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে এসব জ্বালানি খাতের অবকাঠামো পুনর্গঠনে মোট ব্যয় ৫৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
এর মধ্যে তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোর ক্ষতিই প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। তিন সপ্তাহ আগেও এই ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা এখন দ্বিগুণেরও বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে রিফাইনিং ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতে। এসব স্থাপনার জটিলতা এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে পুনর্গঠন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি শিল্প, বিদ্যুৎ ও পানিশোধন খাতেও অতিরিক্ত ৩ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
মোট পুনর্গঠন ব্যয় প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশভেদে ক্ষতির মাত্রা ও পুনরুদ্ধারের সময় আলাদা হতে পারে। ইরানের গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ, রিফাইনিং ও রফতানি অবকাঠামো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুনর্গঠন ব্যয় ১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে কাতারের ক্ষেত্রে ক্ষতি তুলনামূলক সীমিত হলেও রাস লাফান শিল্প এলাকায় প্রযুক্তিগতভাবে জটিল মেরামত কাজের প্রয়োজন হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পুনর্গঠন কাজ নতুন উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করবে না বরং বিদ্যমান সক্ষমতাকে অন্যদিকে সরিয়ে দেবে। এতে, প্রকল্পে বিলম্ব ও বৈশ্বিক জ্বালানি বিনিয়োগে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল সংগ্রহে বিলম্বই পুনরুদ্ধারের সময় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।