সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের রহিম ড্রাইভারের ছেলে রফিকুল ইসলাম রানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ঘের মালিক ও কর্মচারীদের অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে এল্লারচর এলাকায় একটি মৎস্য ঘের দখলে রাখাসহ পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় ভুক্তভোগীরা সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রানা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঘের লিজ নিয়ে মাছ চাষ করলেও লিজের টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করছেন না। এল্লারচর এলাকার ইদ্রিস বিশ্বাস সাগরের দুই বছরের লিজ বাবদ ২০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা চাইলে রানা তাকে হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ। এছাড়া বালিথা এলাকার ঘের মালিক রহমত আলী শেখের পাওনা ২৫ হাজার টাকা।
সুলতানপুরের রওশনআরা অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীর পৈতৃক জমিতে ঘের করে রানা বিগত ৫ বছরে মাত্র ১২ হাজার টাকা দিয়েছেন, যেখানে তার মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার টাকা। এল্লারচরের বাসিন্দা কামাল উদ্দিনের ১১ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে এবং টাকা চাওয়ায় তাকে গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
শুধু মালিকরাই নন, রানার ঘেরের দুই বৃদ্ধ কর্মচারীও তাদের পাওনা বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
৭০ বছর বয়সী কওছার সরদার জানান, মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করলেও তার পাওনা ৫ হাজার টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আরেক কর্মচারী অনিল মন্ডল (৭০) জানান, তার ১৫ হাজার টাকা বেতন আটকে রেখে রানা তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত ৩০ এপ্রিল সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি (অপারেশন) সুশান্ত দাসের উপস্থিতিতে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রানা টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা রক্ষা করেননি।
তার এই প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে এবং পাওনা টাকা উদ্ধারে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম রানা সাংবাদিকদের জানান, তার ঘেরের চুক্তির মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি। তিনি হারি (লিজ) বাবদ পাওনা টাকা পরিশোধ করেছেন। উল্টো তার ঘের থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ লুট হওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং এ বিষয়ে থানায় একটি পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার অপারেশন অফিসার (ওসি) সুশান্ত দাস সাংবাদিকদের জানান, থানায় উভয়পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছিল। সেখানে রানা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেননি। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে, সেদিকে আমরা নজর রাখছি।