পাগলা মসজিদের দানবাক্স
সুবর্ণভূমি ডেস্ক
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রৌপ্যালঙ্কারসহ ১৭টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সোমবার সরকারি ট্রেজারি থেকে বের করে ওজন ও গণনার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে নগদায়ন করে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।
দিনব্যাপী ওজন ও গণনার কাজে দশজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং রূপালী ব্যাংকের দশজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। দিনভর প্রচেষ্টায় সোনা ও রূপার পরিমাপ শেষ হলেও বৈদেশিক মুদ্রার বিস্তারিত হিসাব ও নগদায়ন সম্পন্ন করতে বেগ পেতে হয়।
সোমবার সকাল পৌনে ১০টায় শুরু হওয়া কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই সোনা ও রূপার ওজন সম্পন্ন হয়। এতে এক হাজার ৪৪ ভরি (১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম) স্বর্ণ এবং এক হাজার ৮৮ ভরি (১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম) রুপা পাওয়া গেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ।
তবে রাত ১০টা পর্যন্ত গণনা চালিয়ে ১৭টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও কয়েন বাছাই করা সম্ভব হলেও স্থানীয়ভাবে তা বাংলাদেশি মুদ্রায় তাৎক্ষণিক নগদায়ন করা সম্ভব হয়নি।
রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেছী জানান, বাছাই শেষে মার্কিন ডলার আট হাজার ৫৭, সৌদি রিয়াল ৫৭ হাজার ৪১৪, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ২৯ হাজার ৬৬২, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ১৪ হাজার ২৪০, কুয়েতি দিনার ৭৬৭ দশমিক ৫, ওমানি রিয়াল ৮৮৮ রিয়াল ৩৪৮ বাইসা, কাতারি রিয়াল সাত হাজার ৯৭৩, বাহরাইনি দিনার ৩৩৩, সিঙ্গাপুরি ডলার এক হাজার ৭১৮, ব্রিটেনের পাউন্ড এক হাজার ২২০, ইউরো পাঁচ হাজার ২৪৫, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৫৫৫, কানাডিয়ান ডলার ২৫, মালদ্বীপিয়ান রুপিয়া ৯০০, জর্ডানি দিনার ৯২, ভারতীয় রুপি ৩৭ হাজার ৮৭৭ এবং চাইনিজ ইউয়ান ৩০৫টি পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার বিকালে যোগাযোগ করা হলে বৈদেশিক মুদ্রা গণনায় প্রধান দায়িত্ব পালনকারী রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেছী যুগান্তরকে বলেন, এসব বৈদেশিক মুদ্রার বাংলাদেশি মুদ্রায় মান নির্ধারণ ও নগদায়নের জন্য ঢাকায় রূপালী ব্যাংকের প্রধান বৈদেশিক শাখায় পাঠানো হয়। এসব মুদ্রা নগদায়ন করে সর্বমোট ৬৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৬৮ টাকা ৭৯ পয়সা পাওয়া গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেটের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাজামিন ফজলে রাব্বি এবং রূপালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে কড়া পুলিশ পাহারায় এসব বৈদেশিক মুদ্রা ঢাকায় পাঠানো হয়।