সুবর্ণভূমি ডেস্ক
ফরহাদ মজহারের রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তাধারার একটি রসাত্মক এবং ব্যঙ্গাত্মক রূপক উপস্থাপন করেছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্ট, বিশ্লেষক ফাহাম আব্দুস সালাম। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তার মন্তব্যটি সুবর্ণভূমির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
ফরহাদ মজহার যদি একজন অনকোলজিস্ট হতেন-তিনি একজন স্টেজ-৪ ক্যান্সার পেশেন্টকে বলতেন: এক ঐতিহাসিক গাঠনিক মুহূর্ত আপনার সামনে হাজির। শুধুমাত্র টিউমার অপারেশান করার কথা যে সার্জন আপনাকে বলবে - সে সাম্রাজ্যবাদের দালাল (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) । সে আসলে চাইছে যে শুধুমাত্র আপনার ক্যান্সার ভালো হয়ে যাক কিন্তু বাকি সব সমস্যা আগের মতোই রয়ে যাক।
আপনার দাঁতের ফাঁকে যে প্লাক জমেছে, তা আসলে পুঁজিবাদী ভোগবাদের অবশিষ্টাংশ। শুধু টিউমার কেটে ফেললে মুখের ভিতরের এই কাঠামোগত আধিপত্য রয়েই যায়। তাই অনকোলজিক্যাল অপারেশনের সময় অজ্ঞান থাকা অবস্থাতে চারটা আক্কেল দাঁত ফেলে দেওয়া হবে, যেন আপনি নতুন কোনো সাম্রাজ্যবাদী জ্ঞান গিলে না ফেলতে পারেন।
আপনার সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতাকে পশ্চিমের আধুনিকতা হরণ করেছে। আমরা টিউমার কাটার পাশাপাশি আপনার মেরুদণ্ডকে একদম নতুন উৎপাদন সম্পর্কের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিন্যাস করব। আপনি যখন গ্যাংগ্রিনমুক্ত হয়ে উঠবেন, তখন কেবল সুস্থ হবেন না, সোজা হয়ে দাঁড়াবেন।
টিউমার তো কেবল কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি নয়, এটা হলো ঔপনিবেশিক আধুনিকতার থাবা। আপনাকে অজ্ঞান থাকা অবস্থাতেই একটি সাংস্কৃতিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পাইনিয়াল গ্ল্যান্ডকে জাগ্রত করা হবে, যাতে জাগতিক ও আধ্যাত্মিক দ্বৈততা ভেঙে একাকার হয়ে যায়।
যে অন্ত্রে বছরের পর বছর ধরে কর্পোরেট ফাস্টফুড এবং এনজিও-মারফতের এনলাইটেনমেন্টের বর্জ্য জমে আছে, সেখানে শুধু টিউমার অপারেশন করা একটা চূড়ান্ত বুর্জোয়া প্রতারণা। গ্যাস্ট্রিক ও পাইলোরিক নালীর সম্পূর্ণ পুনঃঅ্যাসাইনমেন্ট করা হবে - যাতে আপনার হজমপ্রক্রিয়াও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী হয়ে ওঠে।
অপারেশন শেষে রোগীকে কোনো কেমোথেরাপি দেওয়া হবে না। কেমোথেরাপি হলো বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির একটি পাতানো ফাঁদ। রোগীকে লালন সাঁইয়ের গান এবং অরগানিক নিমপাতার নির্যাস দিয়ে "আত্ম-উৎপাদনশীল" নিরাময় প্রক্রিয়ায় পাঠানো হবে।