পিনাকী ভট্টাচার্যের স্ট্যাটাস
সুবর্ণভূমি ডেস্ক
বেগম খালেদা জিয়াকে আগুনঝরা ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বর্ণনা করেছেন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য। শনিবার (২৯ নভেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার বেলা ৩ টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত তার এ পোস্টটিতে ১ লাখ ৫৮ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং ১১ হাজার দুইশো জন মন্তব্য করেছেন। একইসাথে স্ট্যাটাসটি ১১ হাজার বার শেয়ার করেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারিরা। সুবর্ণভূমির পাঠকদের জন্য পিনাকী ভট্টাচার্যের দেয়া পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
খালেদা জিয়াকে নিয়ে পিনাকী ভট্টাচার্যের পোস্ট:
উপমহাদেশের দীর্ঘ ক্লান্ত-ইতিহাসে, একসময় জন্ম নিলেন এক নারী—খালেদা জিয়া—যিনি নিছক কোনো রাজনৈতিক চরিত্র নন, বরং এক আগুনঝরা ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি ছিলেন সেই নারী, যাঁর পদচারণায় বদলে গিয়েছিলো বাংলাদেশের রাজনীতি, যাঁর চোখের দৃঢ়তায় আমাদের তারুণ্য খুঁজে পেয়েছিলো অহংকার, স্বাধীনতার স্পর্ধিত আগুন, মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শিক্ষা। "আপোষহীন" বলে একটা নতুন রাজনৈতিক শব্দ।
তার জীবনে রাজনীতি কখনোই নিছক রাজনীতি ছিল না- ছিলো এক অবিরত সংগ্রাম। শোক, কষ্ট, ষড়যন্ত্র ভরা এক বিস্তীর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র।
যৌবনে হারিয়েছিলেন প্রিয়তম মানুষটিকে। বার্ধক্যে সন্তানের কাছে থেকেও ছিলেন বহু দূরে। আরেক সন্তানকে বিদায় জানিয়েছিলেন এক অনিবার্য শূন্যতায়।
তার বিরুদ্ধে ছুটে এসেছিলো কুৎসার ঢেউ, দিগন্তঢাকা অপবাদ। তার প্রতিপক্ষ দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শিখিয়েছিলো তাকে ঘৃণা করতে। কিন্তু তিনি নীরবে দাঁড়িয়ে থেকেছেন; তার নীরবতার মধ্যেই ছিল এক অদম্য শক্তি—যা তার প্রতিপক্ষ কখনো ঠিকঠাক বুঝতে পারেনি।
ডিসেন্সি ছিল তার কবচ- রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল তার অস্ত্র। আর দুর্নীতির কালিমা থেকে দূরে থাকার অদম্য সাহস তাকে তুলে এনেছিল এমন এক উচ্চতায়, যা এখনো কোন বাংলাদেশির পক্ষে অতিক্রম করা দুরূহ।
তিনি যে দলের নেতা ছিলেন, সেই দলটা তার মতো রাজনৈতিক নেতার যোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি। তিনি একাই সেই দলকে টেনে তুলেছিলেন পাহাড়ের চূড়ায়—যেখানে তার অনুসারীরা কখনো বুঝতে পারেনি, তারা যে শিখরে দাঁড়িয়ে আছে তা আসলে এক নারীর দৃঢ়তার নির্মাণ।
এইজন্যই তার সংগ্রাম আর সংগ্রামী জীবনের সিলিসিলা নিজের দলে তার যোগ্য উত্তরাধিকার খুঁজে পায়নি—এটাই তার মহাকাব্যের ট্র্যাজেডি।
আর আমাদেরও অপূর্ণ থেকে গেলো এক সম্ভাব্য ইতিহাস দেখার সৌভাগ্য—যে ইতিহাসে তিনি হতেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, এক রাষ্ট্রমাতার প্রতিমূর্তি। যদি আমাদের দুর্ভাগ্য হয় তাকে বিদায় জানানোর, তবে তার সেই বিদায়ও কোনো সাধারণ বিদায় হবেনা।
যেদিন তিনি বিদায় নেবেন, সেদিন ইতিহাসের বাতাসও থমকে দাঁড়াবে। হাজার তরুণ তখন দূর ভবিষ্যতে তার জীবনগাথা পড়ে অনুভব করবে—একসময় বাংলাদেশে এক নারী এসেছিলেন মাতৃরূপে, যিনি জাতির বুকে ঢেলে দিয়েছিলেন নিরাপত্তা, দৃঢ়তা, আর অটল সাহসের আশ্রয়।
তার উপস্থিতি ছিলো এক নক্ষত্রের মতো দীপ্তিময়, আর তার প্রস্থানও হবে নক্ষত্রের মতোই—অটুট দীপ্তি ছড়িয়ে তা অনন্ত নক্ষত্রের দিকে উড়াল দিবে।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ। খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ।