যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সাইদুল ইসলামের পোস্ট

দুখিনী বাংলাদেশ

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : শনিবার, ২৯ নভেম্বর,২০২৫, ০৫:০৯ পিএম
দুখিনী বাংলাদেশ
Subornovumi

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ খালেদা জিয়াকে নিয়ে এক আবেগময় স্ট্যাটাস দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক প্রায় ঘণ্টা আগে দেওয়া স্ট্যাটাসটিতে তিনি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাবহুল নানা দিক তুলে ধরেছেন।

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমানের বীরোচিত ভূমিকার পর সন্তানসহ নিজের জীবনের ওপর নেমে আসা নানা অধ্যায়ের অবতারণা করেছেন স্ট্যাটাসটিতে।

সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও দেশের প্রতি প্রবল মমত্ববোধকে। দেখিয়েছেন তাকে ট্রাপে ফেলানোর মধ্য দিয়ে সামরিক স্বৈরাচার ও পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের লেবাসধারীদের ষড়যন্ত্রের নানা দিকও। দেশের প্রতি প্রবল ভালোবাসা এবং রাজনৈতিক সততা দিয়ে সেসব জাল ছিন্ন করে খালেদা জিয়া কীভাবে দেশের মানুষের কাছে আপোষহীন নেত্রী হয়ে উঠেছেন সেসব কথাও উঠে এসেছে সাইদুল ইসলামের পোস্টে।

তিনি খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে মিশিয়ে লিখেছেন, দেশ যখন বার বার ক্রান্তিকাল অতিক্রম করেছে তখনই বেগম খালেদা জিয়া ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দেশকে সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। ফ্যাসিবাদ উত্তর বাংলাদেশে যখন খালেদা জিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে গোটা জাতি তখনই তিনি অসুস্থ হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সাইদুল ইসলাম এই পরিস্থিতিকে খালেদা জিয়া নয়, বাংলাদেশের দুঃখ হিসেবেই মনে করে স্ট্যাটাসের শিরোনাম করেছেন ‘দুখিনী বাংলাদেশ’।

সাইদুল ইসলামের এই আবেগময় পোস্টটি সুবর্ণভূমি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

সাইদুল ইসলামের পোস্ট
বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্য অনেকটা বাংলাদেশের ভাগ্যের মতই। বাংলাদেশের সকল সংকটে তিনিও সংকটাপন্ন ছিলেন। কিন্তু কখনও হাল ছেড়ে দেননি। এ কালের সবচেয়ে সংগ্রামী মানুষটির দু:স্বপ্নের শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যার পর থেকে। তিনি তখন ২৬ বছর বয়সী এক গৃহবধূ, পাঞ্জাবিদের অতসী কাঁচের নিচে থাকা একজন বিপজ্জনক বাঙালি সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী এবং দু’টি শিশু সন্তানের মা। থমথমে সন্ধ্যায় প্রতিটি পরিবার যখন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে, তখন তাঁর স্বামী মেজর জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম বন্দরে যাবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানিদের পাতা ফাঁদে পা দিতে।

মধ্যরাতে যখন পাকিস্তানিদের তাণ্ডব শুরু হয়েছে তখনও তিনি, খালেদা খানম, দু’টি শিশু সন্তানসহ ষোলশহরেরর সরকারি বাসায়, ভয়ার্ত এবং বিপন্ন। স্বামীর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। পাশের ফ্ল্যাট ৯ মাসের শিশু সন্তানসহ আরেকজন তরুণী মা। তাঁর স্বামী লেফটেন্যান্ট এওয়াইএম মাহফুজুর রহমান জিয়াউর রহমানেরই সহকর্মী । তিনিও ইউনিট থেকে ফেরত আসেননি। বিপদে বন্ধন শক্ত হয়। দু’দিন পর মাহফুজুর রহমানের ভাতৃপ্রতীম এক বন্ধু আওয়ামী লীগ কর্মী সামসুদ্দিন সাহেব পরিবার দু’টিকে ভয়াল পরিবেশ থেকে উদ্ধার করে নিজের বাসায় আশ্রয় দিলেন। এর পর খালেদা খানমের মামা এসে তাঁদের ঢাকায় নিয়ে গেলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, স্বপরিচয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যে মেজর যুদ্ধে গেছে, সেই গাদ্দারের পরিবারকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মুক্ত রাখে কী ভাবে!

খালেদার খোঁজ শুরু হল, তাঁর আত্মীয় স্বজন বিপদাপন্ন হল, তিনি এলিফ্যান্ট রোড থেকে আটক হলেন। দুই শিশু সন্তানসহ তাঁর বন্দী জীবন শুরু হল, ঢাকা সেনানিবাসের বুচারি মেসে। তাঁর পাশের রুমে সপরিবারে বন্দী তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের একসময়কার অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মাসুদ। জয়দেবপুরে থাকার সময় মাসুদের পরিবারের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠতা ছিল। মাসুদ পত্নীর সাথে তাঁর মাঝে মধ্যে দেখাও হয়। দু’টি শিশু সন্তান সহ খালেদার অসহায়ত্বের কথা জেনেও তিনি কিছু করতে পারেন না। তাঁর নিজের সন্তানই কয়েকদিন আগে রোগে ভুগে মারা গিয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী চিকিৎসার সুযোগও দেয়নি।

অন্য যে সব অফিসার যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তাঁদের স্ত্রী পরিজনও একে একে তাঁদের অনুগামী হয়েছেন, বিভিন্ন উপায়ে তাঁদের ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু খালেদা যেতে পারেননি। কারণ একেতো তিনি বন্দী, আর দ্বিতীয়ত: বিজয় অর্জিত হবার আগ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার মগ্নতা। ২৫ মার্চ সন্ধ্যার পর সেই যে তিনি আল্লাহর ভরসায় পরিবার রেখে যুদ্ধে গিয়েছিলেন, বিজয় অর্জিত হবার আগ পর্যন্ত পাকিস্তানি এক জেনারেলকে হুমকি দিয়ে একটি পত্র লেখা ছাড়া আর তাঁদের জন্যে কিছু করার সময় পান নি।

(Dear General Jamshed,

My wife is under your custodz, if you do not treat her with respect, some day I will kill you; মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম, রক্তে ভেজা একাত্তর)
পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের পর খালেদা মুক্ত হলেন। মেজর শাফায়েত জামিলের সহযোগিতায় সিলেটে এলেন সন্তানদের নিয়ে। তবে শুধু পারিবারিক পুনর্মিলনীতেই তিনি স্বস্তি পেলেন না। ২৫ মার্চের ভয়াল রাতের প্রথম প্রহরে শহীদ হওয়া বাঙালি সেনা কর্মকর্তা লেঃ কর্নেল মজিবুর রহমানের পরিবারের সাথে দেখা করে সহমর্মিতা না জানিয়ে ঢাকায় ফিরলেন না। এই কর্নেল মজিব জিয়া এবং অন্যান্য অফিসারদের সাথে মিলে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পরিকল্পনা করেছিলেন। ২৫ মার্চের অন্তত সপ্তাহ খানেক আগে । খালেদা জিয়া সেটি ভোলেননি।

পচাত্তরের নভেম্বরের এক ভুল বিদ্রোহে জিয়া বন্দী হবার পর খালেদার আবার দেখা মিলল। স্বামীর মুক্তির জন্যে বিদ্রোহীদের সাথে যোগাযোগ করলেন। সে যাত্রা উদ্ধারও পেলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৯৮১ সালের মে মাসে স্বামী হারিয়ে যখন সর্ব শান্ত হলেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ৩৬। দুই সন্তান, আর বিশাল শূন্যতা ছাড়া, জিয়া তাঁর জন্যে আর কোন সম্পদ রেখে যান নি।

ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তাঁর পাহাড় সম জনপ্রিয়তাকে নিজেদের কাজে লাগাবার জন্যে সেনাপ্রধান এবং সরকার প্রধানের মধ্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হল। প্রথম পর্বে সেনাপ্রধান বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা দখল করলেন, আর তাঁর কুটকৌশলে পরাস্ত বিএনপি নেতারা খালেদা খানমকে রাজনীতিতে এনে খালেদা জিয়া বানালেন।

রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ সৈনিক জিয়া যেভাবে দিনের পর দিন পরিশ্রম করে রাজনীতি আত্মস্থ করেছিলেন, খালেদাও সেভাবেই রাজনীতিতে করায়ত্ব করে ফেললেন। এরশাদের নানান প্রলোভনে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে এরশাদের অবৈধ সককারকে বৈধতা দিয়ে, অন্যান্য দলগুলি তাঁর আনুকুল্যে রাজনীতির হালুয়ারুটির ভাগ বাটোয়ায় মত্ত হলেও, বিএনপিকে নিয়ে খালেদা অনড় হয়ে রইলেন। মূলত: তাঁর অনমননীয়তা এবং দূরদর্শিতায় বড় দলগুলি এরশাদের দ্বিতীয় দফা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে আ,স,ম আব্দুর রবের জাসদ আর ফারুক রশীদের ফ্রিডম পার্টিকে বিরোধী দলের আসনে বসিয়ে মসনদে বসতে হল এরশাদকে।

ততদিনে বাংলা ভাষায় লং ড্রাইভ, গৃহপালিত বিরোধীদল এবং আপোসহীন নেত্রী এই বাগধারাগুলি সংযোজিত হয়েছে। এরশাদ এবং তাঁর পাইক পেয়াদারা খালেদা জিয়াকে গুম করে, তাঁর চরিত্রে কালি ছেটানোর চেষ্টা করে তাঁকে নীতি ভ্রষ্ট করতে পারেননি। নিজে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

পরিশ্রম, সততা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীনতা রাজনীতিতে নামার ৭ বছরের মাথায় খালেদাকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছে। ৯১ সালে গঠিত সেই সরকারের প্রথম ৩ বছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের যে কোন সরকারের সেরা শাসনকাল।

এরপর জামাতের উদ্যোগে আওয়ামী লীগের সমর্থনে তত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন শুরু হয়। এই নতুন তত্ব প্রথম দিকে খালেদা জিয়া মেনে নিতে চাননি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে আন্দোলনকারী এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মিডিয়া নানান প্রচারণা শুরু করে। কিছুদিন পর তাতে যোগ দেয় জাতীয় পার্টি। স্বৈরাচার, আর রাজাকারের সমবায়ে আওয়ামী লীগের সেই চালে বিএনপি পরাস্ত হলে খালেদাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। নির্বাচনে দল পরাজিত হলেও খালেদা জিয়া ৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তার প্রতিটিতেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ৫ বছর পরের নির্বাচনে জনতা আবার বিএনপিকে ক্ষমতায় আনে। খালেদা জিয়া নিজে বিজয়ী হন ৫ টি আসনে। বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া কখনও পরাজিত হননি। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখনই তিনি জনসমর্থন চেয়েছেন, ভোটে দাঁড়িয়েছেন জনগণ তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেনি।

ক্ষমতার শেষ বছর নাগাদ (২০০৬ ) দলীয় কিছু ভুল, দুর্নীতি, বিরোধীদলের প্রবল আন্দোলন, এবং ২০০৬ এর অক্টোবরে মতিঝিলে সাপের মত পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলার ঘটনা সরকারকে বিচলিত করে তোলে। তারই ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের নামে দেশব্যপী অরাজকতা শুরু হয়। সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সেই অরাজকতা বন্ধের অজুহাতে খালেদা জিয়া ক্ষমতাচ্যুত হন।

প্রায় দুই বছরের সেনাসমর্থিত শাসনে রাজনীতিবিদদের নানান দুর্নীতির খবর জনতার সামনে উন্মুক্ত হয়। প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের প্রায় সবাই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন। দুই প্রধাণ নেত্রী কারারুদ্ধ হন। এই সময় এক নেত্রী চিকিৎসার নামে বিদেশে চলে গেলেও খালেদা জিয়া দেশের টানে দেশেই থেকে যান। আর বিদেশগামী নেত্রী বিদেশে যাবার আগে সেনা সমর্থিত সরকারের ভুয়সী প্রশংসা করে নির্বাচনে পরোক্ষ ভাবে সহযোগিতা পান। নির্বাচনের ঠিক অল্প ক’দিন আগে জেনারেল হাসান মাসুদ চৌধুরির অধীনস্থ দুর্নীতি দমন কমিশন আগাম ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্রের কথিত দুর্নীতির একটি রিপোর্ট জন সমক্ষে অবমুক্ত করে। রাজনীতি মনস্কদের একটি বড় অংশ মনে করে দুদকের এই ঘটনা নির্বাচনকে প্রভাবিত করে।

তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে। তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এ যাবত অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনে ক্ষ্মতাসীন দলের পরাজিত হবার বিষয়টি আওয়ামীলীগকে বিচলিত করে ফেলে। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্যে তারা তত্বাবধায়ক পদ্ধতিকেই বাতিল করে দেয়। তাঁদের যে সব স্তাবক ইতপূর্বে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিশ্ব সেরা বলে প্রচার করেছিলেন, তারা উলটো সুরে গাইতে থাকেন। এক এগারোর সরকার রাজনীতিবিদদের নামে ঢালাও ভাবে যেসব মামলা করেছিল তার মধ্যে থেকে সরকারি দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলি ( এমন কি কোটি টাকার ঘুষের মামলাও) এক এক করে বাতিল হতে থাকে, বাড়তে থাকে খালেদা জিয়া এবং তার দলের নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা। নির্যাতন ও সম্পত্তি হারানোর ভয়ে বিএনপির বড় বড় নেতারা এক পর্যায়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।

নিরাপত্তার নামে পরিবার বিচ্ছিন্ন একাকি জীবন শুরু হয় খালেদা জিয়ার। স্বামীর স্মৃতিবাহী বাড়িটি থেকে তাঁকে উচ্ছেদ করা হয়।এক পুত্র দেশ ছাড়া হন। এক পুত্র মৃত্যু বরণ করেন।সেই শোক সামলে ওঠার আগেই শোক সন্তপ্ত এই নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করার অভিযোগ আনা হয়।

প্রশ্নবিদ্ধ দুর্নীতির মামলায় অস্বাভাবিক রায় দিয়ে তাঁকে কারা রুদ্ধ করা হয়। ইতমধ্যে দেশে এমন পক্ষপাত মূলক দু’টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যে দেশ বিদেশের কেউই তার ফলাফলের উপর আস্থা রাখতে পারেনি। খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্রের নির্বচনে প্রার্থী হবার অধিকার রোহিত করা হয়। খালেদা জিয়ার বিদেশ উন্নত চিকিৎসা নেবার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তাঁর উপর দমন পীড়ন যত বৃদ্ধি পেয়েছে তাঁর জনপ্রিয়তা বেড়েছে তার সমানুপাতে। সরকারি দলের মন্ত্রী আমাত্যরা তাঁকে এমন ভয় পেতে শুরু করে যে, তাঁর যথপযুক্ত চিকিতসায়ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। প্রতিদিনই তাঁর শারিরীক অবস্থার অবনতির শোনা যাচ্ছিল। খালেদা জিয়া যদি তখন সুস্থ হয়ে ফিরে নাও আসতেন তাও জনগন তাঁকে মনে রাখত গণতন্ত্রের একজন ভক্ত সেবক হিসাবে। যিনি স্বৈরাচার হটানোর জন্যে জীবন বাজি রেখেছিলেন ।যিনি জনতাকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

জনগণ তাঁকে মনে রাখবে দেশের প্রথম নারী সরকার প্রধান হিসাবে। জনগণ তাঁকে মনে রাখবে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রথম প্রধান মন্ত্রী হিসাবে। নারীরা তাঁকে মনে রাখবে নারীর ক্ষমতায়নে গতি আনার জন্যে। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, যমুনা সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের কথা আসলেও খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারিত হবে। বাংলাদেশের শিক্ষানুরাগিরা তাঁকে মনে রাখবেন নিজের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ঘাঁটতি থাকা সত্বেও নারী শিক্ষায় তাঁর অবদানের জন্যে। মানুষ ভুলবেনা তাঁর আমলেই প্রথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। মেয়েদের স্কুলে যাবার হার বেড়েছিল। বিনা মূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়েছিল।

আগেই বলেছি খালেদা জিয়ার সাথে বাংলাদেশের অনেক মিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর দুঃসহ জীবন কেটেছে বন্দীশালায়। দেশের বিজয় অর্জনের আগে তিনি মুক্তি পাননি। এরশাদের শাসনামলে বাংলাদেশের মত তিনিও নিপীড়িত হয়েছেন। এক এগারো তাঁকে বন্দীত্ব দিয়েছে। ফ্যসিবাদী শাসনে জনবিচ্ছিন্ন করার জন্যে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় প্রশ্নবিদ্ধ রায়ে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর তিনি কারামুক্ত হয়েছেন। তবে স্বৈরাচার আমলের অপচিকিতসা এবং পরিবার বিচ্ছিন্নতা তাঁর শাররীক সুস্থতায় একটি নেতিবাচক প্রভাব রেখে গেছে।

অপশাসনের অবসানের পর যখন বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তখন খালেদা জিয়ার অসুসস্থতা পুরো জাতিকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে আপামর জনগণ তাঁর সুস্থতার জন্যে প্রার্থণা করছে। পরম করুণাময়। তাঁকে সুস্থ করে দাও । তিনি বাঁচলে বাংলাদেশে স্বস্তি আসবে।
বি:দ্র: আমার ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি লেখার সম্পাদিত ভার্সন

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)