যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়াম

দুই যুগ পর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে যশোর স্টেডিয়ামে

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
দুই যুগ পর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে যশোর স্টেডিয়ামে

যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়াম দীর্ঘ দুই যুগ পর পেতে যাচ্ছে উন্নয়নের ছোঁয়া। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্টেডিয়ামটির উন্নয়ন শীর্ষ প্রকল্পে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বরাদ্দ দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

দীর্ঘ দিন ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে থাকা যশোরের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়ামটি বড় অংকের অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন সাজে সজ্জিত হবে। এ ব্যাপারে ৩ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব উম্মে ইসরাত স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে যশোর ক্রীড়াঙ্গনের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের পর স্টেডিয়ামটিতে কোনো ধরনের উন্নয়নকাজ না হওয়ায় তা কার্যত ভাগাড়ে পরিণত হয়। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার জন্য ভেঙে ফেলা হয় স্টেডিয়ামটি উত্তর পাশের গ্যালারি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ওই জনসভায় যশোর স্টেডিয়ামের উন্নয়নের জন্য বড় ধরনের বরাদ্দের ঘোষণা দিলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার পলায়নের আগে সেটি আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি তার জনসভাকে কেন্দ্র করে ভেঙে ফেলা গ্যালারিও মেরামত করা হয়নি। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাস সময়ে ৬২ বছরের পুরনো যশোরের এ স্টেডিয়ামটির উন্নয়নে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনসহ সবমহল উচ্ছ্বসিত।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ যশোর জেলা শামস উল হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৩৪.৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ। যশোর উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন ও সহায়তা করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। অসংখ্য ধন্যবাদ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হকের প্রতি।’

এদিকে ৩ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-২ শাখা ৩৪.০০.০০০০.০০০.০৯২.১৪.০০০৮.২৬.৪৭৭ নম্বর স্মারকে যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের সম্মতির কথা জানানো হয়েছে। এর আগে ২৭ আগস্ট অর্থ বিভাগে ০৭.০০.০০০০.০০০.১২৩.১৪.০০২৭.২৬.৬৪ স্মারকে একটি পত্র পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক প্রস্তাবিত 'যশোর জেলা শামস উল হুদা স্টেডিয়ামের এর উন্নয়ন' শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি জ্ঞাপন করে। সেখানে বলা হয় প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় সর্বোচ্চ ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। প্রকল্পের সমুদয় বরাদ্দ জিওবি অনুদান হিসেবে গণ্য হবে। সুপারিশকৃত অর্থের মধ্যে ডিপিপি সংশোধন করে জনবলের প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রচলিত অন্যান্য সকল আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে। সুপারিশকৃত ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার মধ্যে ডিপিপি পুনর্গঠনপূর্বক উক্ত প্রকল্পের জনবল নির্ধারণের প্রস্তাব অর্থ বিভাগে প্রেরণ করতে হবে। অর্থ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত 'যশোর জেলা শামস উল হুদা স্টেডিয়াম এর উন্নয়ন' শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নের সম্মতিপত্রটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে একই সঙ্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাহতাব নাসির পলাশ বলেন, চিরাচরিত কথা আছে, ‘ভাঙতে পারে সবাই, গড়তে পারে কয়জন? ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা কয়েক বছর আগে জনসভার জন্য যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়ামের উত্তর দিকের গ্যালারি ভেঙে ফেললো, অথচ সেটা পুননির্মাণের জন্য বিশাল অংকের বরাদ্দ দিলেন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য যশোরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতি। যিনি যশোর ক্রীড়াঙ্গনের দৈন্যদশা উপলব্ধি করে আগামীর ক্রীড়াঙ্গন যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় সেদিকে গুরুত্বারোপ করে সম্পুর্ণ একক প্রচেষ্টায় এই বরাদ্দ আনতে সক্ষম হয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আগামীতেও তিনি যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামো এবং ক্রীড়ার মানোন্নয়নে কাজ করবেন ইনশাআল্লাহ।’

একই সাথে তিনি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামকেও ধন্যবাদ জানান।

মাহতাব নাসির পলাশ আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট জামানার ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণে যশোরের ক্রীড়াঙ্গনে অবকাঠামোগত তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। সেই সময়ে যারা নেতৃত্বে ছিলেন, তারা কেবল চেয়ার আঁকড়ে ছিলেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)