রুহুল আমিন
, যবিপ্রবি
আইনি জটিলতায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে এ দুই পদে ছয়টি শূন্য পদে নিয়োগ না হওয়া ও বিভাগে যোগ্য শিক্ষক থাকলেও তাদের পদোন্নতি না হওয়ায় নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
এদিকে, নিয়োগ ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিভাগের শিক্ষকরা গত বুধবার থেকে প্রাথমিকভাবে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে রোববার থেকে আবার অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে যবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ওই পদে নিয়োগ বোর্ড হয়। বোর্ডে নিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর বাদশা একটি পদের জন্য এবং অপর পদে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) একজন শিক্ষক কার্ড পান।
তবে, গোবিপ্রবির ওই শিক্ষকের কার্ড পাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে যবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ূন কবির ‘তার প্রতি অবিচার হয়েছে’ দাবি করে নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের জন্য আদালতে রিট পিটিশন করেন। এরপর থেকে বিভাগটিতে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে নতুন করে কোনো নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি হয়নি। ফলে, প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পার হলেও বিভাগটিতে বর্তমানে কোনো অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক নেই।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে মোট ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে বিভাগটিতে অন্তত সাতজন শিক্ষকের সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়ায় বিভাগটির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। একইসঙ্গে পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হচ্ছে।
সূত্র জানায়, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দশ বছরের বেশি সময় ধরে পদোন্নতি না পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চাকরি করছেন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভাগে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক না থাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশপত্র (রিকমেন্ডেশন) সংগ্রহের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ড. মো. হুমায়ূন কবির বলেন, ‘২০২২ সালের একটি বিজ্ঞপ্তিতে উন্মুক্ত পদে সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিয়ে আমি আবেদন করি। যেখানে সাত বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়, সেখানে আমার ছিল আট বছর। তা থাকা সত্ত্বেও আমাকে কার্ড দেওয়া হয়নি। অথচ, এর চেয়ে কম যোগ্যতার বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক হয়েছেন। এভাবেই বঞ্চিত হয়েছি এবং কেন আমাকে কার্ড দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আদালতে রিট করি। ন্যায্য বিচার না পেলে এই রিট উঠাবো না।’
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিভাগে যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কোনো নিয়োগ হচ্ছে না। সিনিয়র শিক্ষকরা পদোন্নতি না পাওয়ায় জুনিয়র শিক্ষকরাও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। ফলে বিভাগে অস্থায়ী শিক্ষকদের স্থায়ীকরণও আটকে গেছে। বিভাগে সিনিয়র শিক্ষক না থাকায় আমাদের পিএইচডি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম। বড় বড় প্রজেক্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব শিক্ষক বছরের পর বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের অন্তত ডিউ ডেট দেওয়া হলে বিষয়টি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে।
‘আমি আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রশাসন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দীর্ঘদিনের নিয়োগ জটিলতার সমাধান করবে এবং শিক্ষকরা এই বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবেন,’ বলেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘মূলত আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগ দিতে পারছি না। এ ক্ষেত্রে যিনি রিট পিটিশনকারী যদি তা উঠিয়ে নেন, তাহলে বিষয়টি খুব সহজেই সমাধান হয়ে যাবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি জটিলতা কাটিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’